ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে স্পেন। আগামী রোববার (১৯ জুলাই) শিরোপার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে তারা। লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের সামনে এখন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের সুবর্ণ সুযোগ।
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই গ্যালারি থেকে পরিবারের সদস্যদের আকুণ্ঠ সমর্থন পেয়ে আসছেন স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামাল। তার মা শিলা ইবানা, সঙ্গী ইনেস গার্সিয়া এবং ভাই কেইন নিয়মিতই মাঠে উপস্থিত থেকে তাকে সমর্থন দিচ্ছেন। তবে গ্যালারিতে একজনের অনুপস্থিতি বারবার সবার মনে প্রশ্ন জাগাচ্ছে।
বার্সেলোনার এই তরুণ উইঙ্গারের বাবা মুনির নাসরাউই দলের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেননি। সম্প্রতি স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ই আহোরা সোনসোলেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এর পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।
নিজের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার আগে স্পেনের ফাইনালে ওঠায় অভিনন্দন জানান মুনির। একই সঙ্গে ছেলের পারফরম্যান্সে গর্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘স্পেনের এই দুর্দান্ত জয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। আমার ছেলে এবং দলের বাকি খেলোয়াড়েরা দারুণ খেলেছে, সবার জন্যই আমি খুব আনন্দিত।’
লামিনের সাথে কী কথা হয়েছে, তা জানিয়ে মুনির বলেন, ‘১৯ বছর ২ দিন হয়ে যাওয়ার পরও ছেলে আমার সবসময় মনের ভেতরেই থাকে। সে আমাকে ফোন করে বলেছিল যে সে আমাকে নিয়ে গর্বিত। জবাবে আমি তাকে বলেছি, আমি তাকে নিয়ে আরও বেশি গর্বিত। ধন্যবাদ লামিন, এবং ধন্যবাদ তাদের সবাইকে যারা তাকে সবসময় সাহায্য করেছে ও পাশে দাঁড়িয়েছে। পুরো বিশ্বকে অনেক ধন্যবাদ।’
আজকের এই গৌরবময় অবস্থানে আসতে কতটা কষ্ট করতে হয়েছে, তা স্মরণ করে স্প্যানিশ তারকার বাবা বলেন, ‘জীবনজুড়ে এটি ছিল এক দীর্ঘ পরিশ্রম ও মানসিক চাপের যাত্রা। এখন যখন দেখি সে সব বাধা পেরিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে, তখন গর্বে বুক ভরে যায়।’
মুনির জানান, তিনি মূলত মৃগীরোগে ভুগছেন এবং এত দীর্ঘ ভ্রমণ তার স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘লস অ্যাঞ্জেলেস এখান থেকে প্রায় ১৮ হাজার কিলোমিটার দূরে। বুঝতেই পারছেন, সেখানে ওর পাশে থাকতে না পারাটা আমার জন্য কতটা কষ্টের। আমি একজন মৃগীরোগী, দিনে আমাকে বেশ কয়েকটি ওষুধ খেতে হয়। যেকোনো সময় আমার মৃগীরোগের খিঁচুনি উঠতে পারে। এখন হয়তো আমি শান্ত আছি, কিন্তু মাঠের উত্তেজনা ও স্নায়ুচাপের কারণে যেকোনো মুহূর্তে আমার শরীর খারাপ হতে পারে। যে কোনো ঘটনা ঘটে যেতে পারে।’
সফরের চেয়ে ছেলের মানসিক প্রশান্তি ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। তার মতে, ‘সেখানে গেলে আমি কেবল সবার দুশ্চিন্তাই বাড়াব। তাই ঘরে বসে টেলিভিশনেই খেলা দেখা আমার জন্য সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।’



































