আর্জেন্টাইন কোচেই ইকুয়েডরের বাজিমাত


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
আর্জেন্টাইন কোচেই ইকুয়েডরের বাজিমাত

বিশ্বকাপ শুরুর আগে কে-ই বা ভেবেছিল তার নাম এভাবে ফুটবল দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়বে? তিনি সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে। ৪৫ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন বর্তমানে ইকুয়েডর জাতীয় দলের কোচ। ডাগ-আউটে বাঁধভাঙা উদ্দীপনা আর রকস্টারসুলভ আচরণের জন্য তিনি বেশ পরিচিত। তবে গতকাল জার্মানির বিপক্ষে মহাকাব্যিক জয়ের পর তিনি যা করলেন, তা ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে ফুটবল ইতিহাসে লেখা থাকবে।

বিশ্বকাপের শুরুটা ইকুয়েডরের জন্য ছিল চরম হতাশার। আইভরি কোস্টের কাছে ১-০ গোলে হারের পর পুঁচকে কুরাসাওয়ের সাথে গোলশূন্য ড্র—সব মিলিয়ে খাদের কিনারায় চলে গিয়েছিল লাতিন আমেরিকার দেশটি। ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা বেকাসেসের পদত্যাগ দাবি করছিলেন। খোদ বেকাসেসেও ঘোষণা দিয়ে বসেছিলেন, ইকুয়েডর যদি নকআউটে যেতে না পারে, তবে তিনি কোচের পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের প্রতিপক্ষ ছিল পরাশক্তি জার্মানি। কিন্তু সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়ে ২-১ ব্যবধানের নাটকীয় এক জয় ছিনিয়ে নেয় ইকুয়েডর, যা তাদের শেষ বত্রিশের টিকিট এনে দিয়েছে। ম্যাচের ৭৭ মিনিটে গনজালো প্লাতা যখন জয়সূচক গোলটি করলেন, তখন আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বেকাসেসে। ডাগআউট থেকে স্টেডিয়ামের ব্যারিকেড টপকে তিনি সরাসরি গ্যালারির প্রথম সারিতে চলে যান এবং সেখানে থাকা নিজের পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ধরে উদযাপনে মাতেন।

২০২৪ সালের আগস্টে ইকুয়েডরের দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরো দলটিকে এক লড়াকু ও আগ্রাসী ইউনিটে রূপান্তর করেছেন বেকাসেসে। তার অধীনে কনমেবল অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দ্বিতীয় স্থানে থেকে মূল পর্বে উঠেছিল ইকুয়েডর। বেকাসেসের অধীনে প্রথম ১২ ম্যাচে তারা গোল হজম করেছিল মাত্র ২টি। মাঝমাঠের চালিকাশক্তি মইসেস কাইসেদোকে একজন বিশ্বমানের নাম্বর ফাইভ হিসেবে গড়ে তোলার পুরো কৃতিত্ব এই কোচের। কাইসেদোকে মাঠে এভাবে মুক্ত করার মাধ্যমেই দলের আসল ইঞ্জিনটি তিনি সচল করে দেন।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, বেকাসেসের কোনো পেশাদার ফুটবল খেলার ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। মার্সেলো বিয়েলসার হাই-প্রেসিং ফুটবল দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে পুরোপুরি তাত্ত্বিক ও কৌশলগত পড়াশোনা করেই ফুটবলের জগতে পা রাখেন তিনি। হোর্হে সাম্পাওলির প্রধান সহকারী কোচ হিসেবেই প্রথম লাইমলাইটে আসেন বেকাসেসে। এই জুটির হাত ধরেই ২০১৫ সালে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম কোপা আমেরিকা জিতেছিল চিলি। এছাড়া ২০১৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের ডাগআউটেও সাম্পাওলির সাথে ছিলেন তিনি।

ক্লাব ফুটবলে ডিফেন্সা ই হুস্তিসিয়া, রেসিং ক্লাব, ইন্দিপেন্দিয়েন্তে কিংবা স্পেনের এলচের মতো ক্লাব সামলানোর অভিজ্ঞতা থাকলেও প্রধান কোচ হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইকুয়েডরই তার প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট। আর প্রথম সুযোগেই খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুলে বেকাসেসে প্রমাণ করলেন, ফুটবল মাঠে রূপকথা লিখতে ডাগআউটে একটা ক্ষুরধার মগজ থাকলেই চলে!

Link copied!