ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই পরাশক্তি স্পেনকে রুখে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে। তবে এই ঐতিহাসিক অর্জনের পেছনে মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি জড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের নামও।
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে কেপ ভার্দে জাতীয় দলের ফুটবলাররা যে জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন, তা সম্পূর্ণভাবে তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের কারখানায়। জার্সির গায়ে গর্বের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেবেল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, এই জার্সির মূল ফেব্রিক্স বা কাপড়টি তৈরি হয়েছে ঢাকার ইয়াংওয়ান কর্পোরেশন বাংলাদেশের নিজস্ব কারখানায়। পরবর্তীতে সেই ফেব্রিক্স ব্যবহার করে চূড়ান্ত জার্সিটি প্রস্তুত করেছে জার্মান স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড কাপেলি স্পোর্ট।
ঢাকায় অবস্থিত তাদের নিজস্ব ম্যানুফ্যাকচারিং এবং অ্যাসেম্বলিং ফেসিলিটিতে এই পোশাক তৈরি হয়।
‘গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলিং লিমিটেড’-এর ম্যানেজার সৌমিক বর্মণ দেশের এক গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, কেপ ভার্দে জাতীয় দলের জার্সিগুলো বাংলাদেশে তৈরি এবং এগুলোতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগ রয়েছে।
২০১৯ সাল থেকে কাপেলি স্পোর্টস তাদের নিয়মিত বায়ার এবং তখন থেকেই তারা এই অর্ডারগুলো সামলাচ্ছেন। ঢাকার উত্তরা এলাকায় এই কারখানাটি অবস্থিত।
একই সঙ্গে ইয়াংওয়ানের একজন কর্মকর্তা জানান, জার্মান ব্র্যান্ড কাপেলি স্পোর্টস মূলত জার্সিটি বানিয়েছে। ঢাকায় তাদের নিজস্ব প্রোডাকশন ফেসিলিটি রয়েছে। ইয়াংওয়ান শুধু তাদের উন্নতমানের ফেব্রিক্স সরবরাহ করেছে এবং তাদের কাপড়ের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে এই ঐতিহাসিক জার্সি।
পোশাকের বাইরে মাঠের লড়াইয়েও ইতিহাস গড়েছে পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটি। স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের একের পর এক আক্রমণ একাই নসাৎ করে দেন কেপ ভার্দের অধিনায়ক ও গোলরক্ষক ভোজিনহা।
পুরো ম্যাচজুড়ে স্পেন বলের দখল নিয়ন্ত্রণে রাখলেও এবং দ্বিতীয়ার্ধে তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালসহ একঝাঁক আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় নামালেও, ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের দেয়াল তারা ভাঙতে পারেনি।
‘ব্লু শার্কস’ খ্যাত কেপ ভার্দের এই জয়ের নায়ক ম্যাচজুড়ে মোট ৭টি অবিশ্বাস্য সেভ করেন। এর মধ্যে মিকেল ওয়ারজাবালের জোরালো হেডার বারের ওপর দিয়ে ঠেলে দেওয়া এবং ফেরান তোরেস ও এমেরিক লাপোর্তের নিশ্চিত গোলের শট আটকে দেওয়া ছিল ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।
এই ম্যাচের মাধ্যমে ভোজিনহার ক্যারিয়ারেও একটি অনন্য মাইলফলক যুক্ত হলো। ৪০ বছর বয়সে এসে ফিফা বিশ্বকাপে অভিষেক ঘটিয়ে তিনি ইতিহাসের দ্বিতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ অভিষিক্ত খেলোয়াড় হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন। এই তালিকায় ৪৫ বছর বয়সে অভিষেক করে সবার ওপরে রয়েছেন মিশরের কিংবদন্তি গোলরক্ষক এসাম এল হাদারি।



























