সেলিব্রিটিদের অবকাশযাপনের জন্য বিখ্যাত ইবিজা স্পেনে। চোখজুড়ানো আরও অনেক সমুদ্রতট আছে এই দেশে। কিন্তু সেখানে কি হাঙর আছে?
আচ্ছা, স্পেন-কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে হাঙরের কথা আসছে কেন? আপনার জানা না–ও থাকতে পারে, কেপ ভার্দে নামের পুঁচকে দ্বীপদেশটির ফুটবলের ডাকনাম ‘নীল হাঙর’। নিজেদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপের ম্যাচে কি তারা কামড়ে দিতে পারবে স্পেনকে? কেপ ভার্দে হাঙর হলে স্পেন তো নীল তিমিই, তাই না?
প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দের চেয়ে স্পেনের চিন্তাটা বোধ হয় নিজেদের নিয়েই বেশি। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ কী নিয়ে অপেক্ষা করছে, কে জানে! গত তিনটি বিশ্বকাপের কথা মনে করে দেখুন।
২০১৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫-১ গোলে উড়ে যাওয়া। পরের বিশ্বকাপে পর্তুগালের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র। ২০২২ বিশ্বকাপে আবার কোস্টারিকাকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া। শুরুর ম্যাচে অননুমেয় হলেও একটা ব্যাপার অনুমান করা যায়, স্পেনের উদ্বোধনী ম্যাচ মানেই অনেক গোল। আবার এই তিন বিশ্বকাপে একবারও স্পেন পার হতে পারেনি শেষ ষোলোর বাধা।
সেই বাধা টপকানো তো বটেই, এবার স্পেন অনেকের চোখেই অন্যতম ফেবারিট। লুইস দে লা ফুয়েন্তে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ ইউরো থেকে দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে স্পেন। জোহানেসবার্গ ফুটবল সিটি স্টেডিয়ামে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা যে সোনালি ট্রফিটা এনে দিয়েছিলেন আইবেরিয়ান উপদ্বীপে, সেই ছবিটা এবার কে আঁকবেন?
যাঁর ওপর সবচেয়ে বেশি বাজি, সেই লামিনে ইয়ামালকে নিয়েই এবার অনিশ্চয়তা। এপ্রিলে লা লিগার ম্যাচে চোট পাওয়ার পর ইয়ামাল শুরুতে ভেবেছিলেন, তাঁর বিশ্বকাপটাই বোধ হয় শেষ!
বিশ্বকাপ খেলার তীব্র জেদ থেকেই হয়তো সেরে উঠছেন নির্ধারিত সময়ের আগে। শুরুতে গ্রুপ পর্বে তাঁকে পাওয়া নিয়ে সংশয় থাকলেও দে লা ফুয়েন্তে দুই দিন আগে জানিয়েছেন, ইয়ামাল ফিরতে পারেন প্রথম ম্যাচেই। এর মধ্যে দলের সঙ্গে অনুশীলনও শুরু করেছেন। আজ কেপ ভার্দের বিপক্ষে শুরু থেকে না হলেও কিছু সময়ের জন্য তাঁকে হয়তো দেখা যাবে।
চোটের সমস্যা আরও আছে। ডান প্রান্তে ইয়ামাল আর বাঁ প্রান্তে নিকো উইলিয়ামসের রসায়ন ছিল ইউরোতে স্পেনের গোপন ফর্মুলা। উইলিয়ামসও সেরে উঠছেন, সেই সঙ্গে চোট কাটিয়ে ওঠার পথে আরেক ফরোয়ার্ড ভিক্টর মুনিয়োজ। এই তিনজনকে না পেলে দুই প্রান্তের জন্য বিকল্প কিছু ভাবতে হবে ফুয়েন্তেকে।
অবশ্য স্পেনের যে দলীয় গভীরতা, তাতে খুব সমস্যা হওয়ার কথা নয়। মিডফিল্ডেই দেখুন না—রদ্রি, পেদ্রি, ফাবিয়ান রুইজদের নিয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা। যে কারণে মিকেল মেরিনো, দানি ওলমো বা মার্তিন জুবিমেন্দির মতো খেলোয়াড়দেরও বসে থাকতে হতে পারে বেঞ্চে। বিলবাওয়ের উনাই সিমন, আর্সেনালের দাভিদ রায়া আর বার্সার হোয়ান গার্সিয়া—গোলকিপার নিয়েও ফুয়েন্তের মধুর সমস্যা। রক্ষণে পাউ কুবারসি, এমেরিক লাপোর্ত, মার্ক কুকুরেয়ারা জোগাচ্ছেন নির্ভরতা।
এই স্পেন দলের সামনে তো ‘পুঁচকে’ কেপ ভার্দের উড়ে যাওয়ার কথা। পাঁচ লাখের সামান্য বেশি জনসংখ্যার দেশটি আফ্রিকা থেকে বিশ্বকাপ বাছাই পেরিয়ে এসেছে ক্যামেরুনের মতো মহাদেশীয় পরাশক্তিকে পেছনে ফেলে। প্রবাসী ফুটবলারদের আশীর্বাদে বিশ্বকাপের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তাদের।
পর্তুগিজ লিগে খেলা দাইলান লিভ্রামেন্তো সম্ভবত তাদের সবচেয়ে বড় তারকা। কিন্তু স্পেনের তারায় তারায় খচিত আকাশের সঙ্গে তুলনায় কেপ ভার্দে অনেক দূরে টিমটিম করে জ্বলতে থাকা কোনো তারাপুঞ্জ। র্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় দলের সঙ্গে ৬৭তম দলের কোনো তুলনা হয়, আপনিই বলুন!

































