আরব্য রজনীতে যন্ত্রণাকাতর আর্জেন্টিনা


অঘোর মন্ডল
প্রকাশিত: নভেম্বর ২২, ২০২২, ০৮:০২ পিএম
আরব্য রজনীতে যন্ত্রণাকাতর আর্জেন্টিনা

অভিব্যক্তিহীন মুখ! তার মাঝেও পড়ে নেওয়া যায় চোখ-মুখের ভাষা। অবিশ্বাস। চোখে অবিশ্বাস। শরীরে ক্লান্তি। কারণ, স্বপ্নেও হয়তো ভাবতে পারেননি লিওনেল মেসি এ রকম আরব্য রজনীর গল্পের মতো দুঃস্বপ্নের মধ্যে শুরু হবে তার শেষ বিশ্বকাপ!

 
দশ মিনিটের মধ্যে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেওয়ার পরও সৌদি আরবের কাছে ২-১ গোলে হারের অব্যক্ত যন্ত্রণা নিয়ে তাকে মাঠ ছাড়তে হবে! আসলে মেসি এবং তার দলকে একাই আটকে দিলেন হলুদ জার্সি পরা গোলরক্ষক আল-ওয়াইসি। গোলপোস্টে দ্য ওয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি! মেসি- ডি-মারিয়া-মার্টিনেজ সবার শট আটকে দিলেন সৌদি গোলরক্ষক। কৃতিত্ব দিতে হবে তাকে।
 

বেশি কৃতিত্ব প্রাপ্য সৌদি কোচের। কাপের দাবি নিয়ে যারা কাতার এসেছে, মেসির মতো মহাতারকা যাদের দলে আছে, তাদের ট্যাকটিক্যালি দারুণভাবে আটকে দিলেন।


এক গোলে পিছিয়ে পড়েও দারুণ পেশাদারি মনোভাব বজায় রেখে ম্যাচটা বের করে নিলেন। মেসি-মার্টিনেজদের বারবার অফসাইডের ফাঁদে ফেলেন।  একে একে আর্জেন্টিনার তিনটা গোল বাতিলও হয়ে যায়। আর্জেন্টিনার এ রকম তারকাখচিত দলের বিপক্ষে এ রকম ঝুঁকিপূর্ণ ট্যাকটিকসে খেলার সাহস দেখিয়েছেন তিনি। 


সৌদি ফুটবলাররা জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন।একটা জয় তাদের জীবনের গল্প বদলে দিতে পারে। পাল্টে দিতে পারে সৌদি ফুটবলের ইতিহাস। তার জন্য তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। সত্যিই তো নতুন ইতিহাস লিখল সৌদি। দু‍‍বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল তারা।
 

ইতিহাসের পাতা ওল্টাতেই দেখা যাচ্ছে এবারই প্রথম নয়। এর আগে আরও পাঁচবার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারল আর্জেন্টিনা। সবশেষ তারা ‍‍’৯০-এর বিশ্বকাপে ম্যারাডোনাকে নিয়ে  ক্যামেরুনের কাছে হেরেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ফাইনাল খেলছিল। এবার প্রথম ম্যাচেই মেসির দলের সামনে এসে ম্যারাডোনার ছায়া হাজির হলো। হার দিয়ে শুরু হলো তাদের বিশ্বকাপ।  টানা ছত্রিশ ম্যাচ অপরাজিত থাকা আর্জেন্টিনা হোঁচট খেল বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে। হতাশ তাদের সমর্থকরা। কিন্তু এই হার শাপে বর হয়ে যেতে পারে মেসির দলের জন্য। ল অব অ্যাভারেজ বলে একটা কথা আছে। আর্জেন্টিনার স্বপ্ন দৌড়ে তো একটা জায়গায় শেষ হওয়ার কথা ছিল। তাদের দৌড় থামিয়ে দিল সৌদি। 


এবার নতুন করে শুরু করতে হবে আর্জেন্টিনাকে। সামনে আরও দুই কঠিন প্রতিপক্ষ। মেক্সিকো ও পোল্যান্ড। সে বাধা টপকে শেষ ষোলোতে পৌঁছালে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে তারা। মেসির শেষ বিশ্বকাপ। সেটা তার টিমমেটরাও জানেন। কাপ হাতে তাকে বিদায় জানাতে হলে, আরও নিজেদের নিংড়ে দিতে হবে। ফরোয়ার্ড লাইনকে আরও কার্যকর হতে হবে। গোলের সঠিক ঠিকানা খুঁজে নিতে হবে। মাঝমাঠ থেকে গোলের ঠিকানা লেখা পাস বাড়াতে হবে। আরও  ডিফেন্সের সেই জমাট ভাবটা ফিরিয়ে আনতে হবে। গোলপোস্টে মার্টিনেজকে হয়ে উঠতে হবে আস্থার প্রতীক। না হলে অ্যাঞ্জেল উইদ ডার্টি ফেসেস সেই পুরোনো খেতাবটা নিয়েই কাতার থেকে ফিরতে হবে তাদের। আর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের হতে হবে যন্ত্রণাকাতর। 

 

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Link copied!