• ঢাকা
  • শনিবার, ২০ জুলাই, ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১, ১৩ মুহররম ১৪৪৫

‘ইলিয়াস কাঞ্চনের’ দাম ১৫ লাখ, কদর নেই ‘শাকিব খানের’


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৪, ০৮:২৮ পিএম
‘ইলিয়াস কাঞ্চনের’ দাম ১৫ লাখ, কদর নেই ‘শাকিব খানের’
‘ইলিয়াস কাঞ্চনের’ দাম হাঁকা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। ছবি: সংবাদ প্রকাশ

কোরবানির পশুর হাটের ক্রেতাদের দৃষ্টি কাড়তে কতই না কৌশলের আশ্রয় নেন পাইকার ও বিক্রেতারা। পশুকে নানাভাবে সাজানো হয়। কখনও গলায় মালা পরিয়ে, গোটা শরীরে রঙ বেরঙের কাপড় ঝুলিয়ে ক্রেতাদের আকর্ষণ করা হয়। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসে পশুর নামকরণ। বিভিন্ন সেলিব্রেটি, বিশেষ করে আলোচনা বা বিতর্কের তুঙ্গে থাকা চলচ্চিত্র জগতের অভিনেতাদের নামে পশুর নামকরণ।

খামারিরা অনেকটা ভালোবেসে বা আদর করেই পালিত পশুর এসব নাম রাখেন। আবার ব্যবসায়ী বা বিক্রেতারাও ক্রেতাদের বাড়তি নজর কাড়তে আলোচিত নাম দেন। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। শুক্রবার (১৪ জুন) রাজধানীর গাবতলীতে কোরবানির পশুর হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা মিলেছে ‘ইলিয়াস কাঞ্চন’ ও ‘শাকিব খান’ নামের দুটি গরুর। আবার দুটো গরুর নাম দেওয়া হয়েছে ‘বুলেট’ আর ‘ধলাপাহাড়’ (সাদা পাহাড়)।

গাবতলী গবাদি পশুর হাট ঘুরে বিক্রেতা, খামারি ও পরিচর্যাকারীর মুখে শোনা গেছে গরুর এসব নাম। বাজারে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা ও বিক্রি বেশি হলেও নাম ও আকৃতি দেখে অনেকেই থমকে যাচ্ছেন। কৌতুহল দমাতে না পেরে অনেকে আবার দরদামও কমছেন।

গরুর নাম ‘শাকিব খান’। ছবি: সংবাদ প্রকাশ

বিক্রেতা, খামারি ও পরিচর্যাকারীদের সঙ্গে কথা বলে নামধারী এসব গরুর দাম ও সম্ভাব্য মাংসের পরিমাণ জানা গেছে। ‘ইলিয়াস কাঞ্চন’ নামের গরুটির সম্ভাব্য মাংসের পরিমাণ বলা হচ্ছে ২৫ মণ। আর দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। একইভাবে ‘শাকিব খানের’ মাংসের পরিমাণ বলা হচ্ছে ২২ মণ। দাম হাঁকা হচ্ছে ৬ লাখ। ‘ধলাপাহাড়ের’ দাম চাওয়া হচ্ছে ১২ লাখ। মাংসের পরিমাণ দাবি করা হচ্ছে ২৭ মণ। আর ‘বুলেটের’ দাম চাওয়া হচ্ছে ৮ লাখ। যার মাংস হতে পারে ২৪ মণ।

অবাক করা বিষয় হচ্ছে, ক্রেতারা ইলিয়াস কাঞ্চনসহ অন্যান্য নামধারী গরুর দাম বেশি হাঁকলেও কেউ ফিরেও তাকাচ্ছেন না শাকিব খানের দিকে। বাংলা সিনেমার সুপারহিট নায়কের নামে গরুর নামকরণ সুফল পাচ্ছেন না বিক্রেতারা। বলছেন, ‘শাকিব খান’ নামের গরুটি কদর পাচ্ছে না হাটে।

‘ধলা পাহাড়’। ছবি: সংবাদ প্রকাশ

ইলিয়াস কাঞ্চন নামের গরুটির পরিচর্যাকারী কামরুল ইসলাম সংবাদ প্রকাশকে বললেন, “সাভারের নীল এগ্রো ফার্মে গত ৪ বছর থেকে লালন পালন করা হয়েছে গরুটি। ঘাস, ধানের গুড়া, ভুট্টার গুড়াসহ প্রাকৃতিক খাবার ছাড়া অন্য কিছু খাওয়ানো হয়নি। আমাদের মালিক আদর করেই গরুটির নাম ইলিয়াস কাঞ্চন রেখেছেন। দাম চাওয়া হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। ক্রেতারা আসছেন, দেখছেন, ১০ লাখ টাকার বেশিই দাম বলছেন। তবে এখনও দেওয়া হয়নি। আরও দেখে তারপর ছাড়বো।”

‘শাকিব খানের’ মালিক শাহ্ আলম হোসেন সংবাদ প্রকাশকে বললেন, “শাকিব খানকে অনেক ভালো লাগে বলেই গরুটির নাম রেখেছি তার নামে। মাস ছয়েক ধরে গরুটি আমার কাছে আছে। চাওয়া দাম ৬ লাখ টাকা। একটাও ক্রেতা আসেনি। ৫ লাখ টাকা হলে বিক্রি করবো। মাংস ২০ থেকে ২২ মণ হবে।”

‘বুলেট’। ছবি: সংবাদ প্রকাশ

‘ধলাপাহাড়ের’ মালিক ইকরামুল ইসলাম সংবাদ প্রকাশকে বলেন, “গরুটি সাদা, তাই আদর করে ‘ধলা পাহাড়’ নাম রাখছি। গরুটি আমার কথা শোনে অনেক। দাম রাখছি ১২ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত সাড়ে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা দাম বলছেন ক্রেতারা। অনেক ক্রেতা আসছে দুইদিন থেকে। গরুটি লালন পালনে প্রতিদিন খরচ হয়েছে হাজার টাকা করে। এটা ফ্রিজিয়ান জাতের গরু। দেখা যাক চাওয়া দামে বিক্রি হয় কিনা।”

‘বুলেটের’ মালিক মনিরুল ইসলাম বললেন, “বছর দুয়েক ধরে বিভিন্ন ধরনের ভুসি খাইয়ে গরুটি পালন করছি। শখ করেই নাম রাখছি ‘বুলেট’। এর জন্য অনেক কষ্ট হচ্ছে। রাখতে পারবো না বলেই বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। দাম রাখছি ৮ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত ৫ লাখ টাকা বলেছে।” 

Link copied!