• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১, ১৩ শাওয়াল ১৪৪৫

তৃণমূলে যে বার্তা দিল আওয়ামী লীগ


সফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৩, ১০:০৭ পিএম
তৃণমূলে যে বার্তা দিল আওয়ামী লীগ

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গত তিন টার্মের চেয়ে এবারের নির্বাচন হবে অত্যন্ত কঠিন, এমন বার্তা দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সর্বশেষ ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগ আয়োজিত ছাত্রসমাবেশ এবং ২ সেপ্টেম্বর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এমন বার্তা দিয়েছেন।

এই দুটি সমাবেশে সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বার্তাটি জানার জন্য। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস পাওয়া গেছে।

এর আগে গত ৬ আগস্ট সারা দেশ থেকে আওয়ামী লীগের প্রায় তিন হাজার নেতা, সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বিশেষ বর্ধিতসভা করেন দলীয়প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের ওই বর্ধিতসভায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে কথা বলেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সারা দেশ থেকে আসা নেতারা।

বর্ধিত সভায় শেখ হাসিনার নির্দেশ ছিল ব্যক্তি নয়, নৌকা প্রতীক দেখে ভোট দিতে হবে। যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তাকেই বিজয় করতে হবে। তবে ব্যক্তিগত আলাপে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের অনেকে স্বীকার করেন, এবারের দ্বাদশ নির্বাচন অন্যান্য বারের তুলনায় ভিন্ন। এর ব্যাখ্যায় তারা বলছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ব্যাপক জ্বালাও-পোড়াও হয়েছে। তবে সে সময় পরিস্থিতি সামলাতে দলের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর গুরু দায়িত্ব ছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগেও দলকে এতটা প্রয়োজন পড়েনি। কিন্তু এবার দলকে গুরুদায়িত্ব নিতে হবে। সহায়ক শক্তি হিসেবে থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ জন্যই আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ‘চাঙ্গা’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত ডিসেম্বর থেকে বিএনপির পাল্টা হিসেবে যেসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, তা কাজে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার বাইরে নির্বাচনী সমাবেশ করবেন। এর মাধ্যমেও দলের নেতাকর্মীরা আরও উজ্জীবিত হচ্ছেন বলে দলের নেতারা মনে করছেন। এছাড়াও সমাবেশগুলোতে আওয়ামী লীগের নেতা, সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের মনের ভীতি দূর করার বক্তব্য দিচ্ছেন দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা।

র‌্যাব-পুলিশের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও মার্কিন ভিসানীতি এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের তৎপরতা, প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিসহ তাদের মিত্র দলগুলোর এক দফার আন্দোলন নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র ভাবনা তৈরি হয়েছে। এছাড়া ডিজিটালমাধ্যমে সরকার ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চলছে, সে নিয়েও উদ্বিগ্ন দলটির নেতাকর্মীরা। এসব প্রতিবন্ধকতা ও অপপ্রচার শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ে তেমন প্রভাব ফেলতে পারবে না বলে সমাবেশে এমন বক্তব্যে দিয়ে তৃণমূল নেতাদের চাঙ্গা করেছেন শেখ হাসিনা।

যেকোনো আন্দোলন মোকাবিলা করতে হবে 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র ও অপশক্তিদের যেকোনো আন্দোলন মোকাবিলা করতে হবে।”

শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে এ নির্দেশনা দেন।

এদিন দ্বাদশ নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই দলের নেতাকর্মীদের যেকোনো পরিস্থিতিতে পাল্টা প্রস্তুতি নিয়ে রাজপথে থাকার আহ্বান জানান শে হাসিনা। এছাড়াও ভোটে কেউ বাধা সৃষ্টি করতে চাইলে কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয়প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সংবিধান মেনে সময়মতো আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যত বাধা ও চাপ আসুক না কেন, পিছপা হবে না আওয়ামী লীগ।

ছাত্রলীগকে যে বার্তা দিলেন শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার যে কোনো ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সদস্যদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় ছাত্রলীগকে আগামী দ্বাদশ নির্বাচন পর্যন্ত প্রহরীর মতো জেগে থাকার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় কেউ আর বাধা দিতে পারবে না। ছাত্রলীগকে প্রহরীর মতো জেগে থাকতে হবে।”

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, “সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের রাজনীতি ছাত্রসমাজ সর্মথন করে না। স্মার্ট বাংলাদেশ কোনো দলীয় লক্ষ্য নয়। আজ স্মার্ট বাংলাদেশের পক্ষে রায় ঘোষণায় ছাত্রসমাজ জড়ো হয়েছে। আগামী নির্বাচনে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে শেখ হাসিনার বিজয় নিশ্চিত করবে ছাত্রলীগ।”

একই সুরে কথা বলেছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। তিনি বলেন, “আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, শতভাগ দুর্নীতি নাকি শতভাগ উন্নয়ন চাই। সারা দেশে মডেল মসজিদ চান নাকি সারা দেশে বোমা হামলা চাই। আগামী নির্বাচনে আরও একবার শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করা হবে।”

১ সেপ্টেম্বর ছাত্র সমাবেশে সারা দেশ থেকে অন্তত পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে তার দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। স্যাটেলাইট, টানেল ও মেট্রোরেলের যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। লোডশেডিং কাটিয়ে দেশের মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেয়েছে। রাস্তাঘাট, রেল যোগাযোগ ও অবকাঠামোর প্রভূত উন্নতি হয়েছে। মহামারি করোনার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সাফল্যের সংবাদ দ্বাদশ নির্বাচনের আগে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, “দ্বাদশ নির্বাচনের আগে ছাত্রলীগ ও সুধী সমাবেশে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বেশকিছু নির্বাচনী বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুটি সমাবেশেই নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট প্রস্তুতি ও বিশেষ দিকনির্দেশনামূলক বার্তা দিয়েছেন শেখ হাসিনা।”

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, “প্রধানমন্ত্রী টানা দুটি সমাবেশের মাধ্যমে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নির্বাচনী বিশেষ নির্দেশনাগুলো দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। ভোটে কেউ বাধা সৃষ্টি করতে চাইলে কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা থাকবে। যত বাধা ও চাপ আসুক না কেন, পিছপা হবে না আওয়ামী লীগ। নেতা-কর্মীদের সেভাবেই প্রস্তুত থাকতে হবে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে নির্বাচনে কেউ হারাতে পারবে না এই বার্তাও দেওয়া হচ্ছে।”

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, “জাতির বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় অর্জন করা একান্ত প্রয়োজন। একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে শেখ হাসিনা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।”

Link copied!