প্রবাসীদের পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন ৬০ দিনে নিষ্পত্তির নির্দেশ হাই কোর্টের


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
প্রবাসীদের পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন ৬০ দিনে নিষ্পত্তির নির্দেশ হাই কোর্টের

প্রবাসীদের পাসপোর্ট নবায়নের ঝুলে থাকা আবেদন আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের হাই কোর্ট বেঞ্চ রোববার অন্তর্বর্তীকালীন এ আদেশ দেয়।


আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে নব্বই দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য নতুন পাসপোর্ট ইস্যু ও নবায়নের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রশাসনের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।

রুলে প্রবাসীদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, প্রবাসী কল্যাণ সচিব, আইন সচিব এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ (ডিজি) মোট ১৪ জনকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতের আরেক আদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আগামী ২১ দিনের মধ্যে বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশের হাই কমিশন ও দূতাবাসগুলোকে চিঠি দিতে বলা হয়েছে, যাতে প্রবাসীদের নতুন পাসপোর্ট বা নবায়নের আবেদন দ্রুত পাসপোর্ট অফিসে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে হবে।

প্রবাসীদের পাসপোর্ট আবেদন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তি না হওয়ার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে এই রিট আবেদনটি করা হয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ জিসান হায়দার।

রিট আবেদনে বলা হয়, পাসপোর্ট নবায়ন ও ই-পাসপোর্ট ইস্যুতে দীর্ঘসূত্রতা সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আইনের আশ্রয় লাভ এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের বিধানের পরিপন্থি। একই সঙ্গে এটি সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত ২১ অনুচ্ছেদেরও লঙ্ঘন।

আবেদনে বলা হয়, পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ায় অনেক প্রবাসী ভিসা নবায়ন করতে পারছেন না। ফলে তারা সংশ্লিষ্ট দেশে অবৈধ অভিবাসীতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন। অনেকেই কারাবরণ করছেন এবং বাধ্য হয়ে দেশে ফেরার ঝুঁকিতে পড়ছেন।

রিট আবেদনে বলা হয়, ঢাকার ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অফিসের প্রিন্টিং প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং সিরিয়াল ব্যবস্থাপনায় ‘অবহেলার’ কারণে প্রবাসীদের আইনি মর্যাদা, চাকরি, জীবিকা ও মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে, যা দেশের রেমিটেন্স প্রবাহ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকিস্বরূপ।

শুনানি শেষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, "লাখ লাখ প্রবাসী বিভিন্ন দেশে কাজ করে যে রেমিটেন্স দেশে পাঠান, তা আমাদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। কিন্তু পাসপোর্ট ও নবায়নের আবেদন দিনের পর দিন ঝুলিয়ে রাখায় তাদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। এমনকি অনেকের চাকরি হারাতে হচ্ছে, যার ফলে দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।"

Link copied!