পুলিশ কোনো দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
পুলিশ কোনো দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশ কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে পুলিশকে দলীয় প্রভাবমুক্ত, মানবিক, পেশাদার ও সেবামুখী বাহিনী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

আজ রবিবার সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুলিশ কর্মকর্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ না দিতে তিনি পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি জানিয়েছেন, পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। তাই কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়, সংবিধান, আইন এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের আস্থাই হবে পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি।

ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, সাইবার অপরাধ, ডিজিটাল প্রতারণা ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দ্রুত বাড়ছে। এসব অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি জরুরি। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের বন্ধু ও সেবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বললেন, বিগত সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনী বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা ও মানবিক আচরণের কোনো বিকল্প নেই।


তিনি পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সেবা নিতে এসে যেন কোনো মানুষ হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষের যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।


অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপ্তি ঘটে। গত ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ৫৮ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে কুচকাওয়াজের অভিবাদন নেওয়া শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া ‘বেস্ট প্রবেশনার’ এবং ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’ পুরস্কার অর্জন করেন। ‘বেস্ট অ্যাকাডেমিক অ্যাওয়ার্ড’ পান আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম। আর ‘বেস্ট শ্যুটার’ নির্বাচিত হন এ বি এম মামুন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান। প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া।

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!