আজ বিশ্ব ফ্রেঞ্চ ফ্রাই দিবস


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
আজ বিশ্ব ফ্রেঞ্চ ফ্রাই দিবস

আলু দিয়ে তৈরি খাবারের জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে। ভর্তা, ভাজি, রোস্ট কিংবা ফ্রাই—যেভাবেই তৈরি করা হোক, আলুর স্বাদ বরাবরই মানুষের পছন্দের তালিকায়।

তবে মুচমুচে, সোনালি রঙের এক প্লেট ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের আবেদন যেন আলাদা। ছোট-বড় সবার পছন্দের এই খাবার এখন শুধু ফাস্ট ফুড নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খাবার সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে।
আজ ১০ জুলাই বিশ্ব ফ্রেঞ্চ ফ্রাই দিবস। যদিও এটি মূলত ন্যাশনাল ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ডে নামে পরিচিত একটি উদযাপন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও দিনটি ফ্রেঞ্চ ফ্রাইপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে পালিত হয়।

বর্তমানে দিবসটি প্রতিবছরের জুলাই মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার পালন করা হয়। এর আগে ১৩ জুলাই পালন করা হলেও ২০২৩ সাল থেকে দিনটি দ্বিতীয় শুক্রবারে নির্ধারণ করা হয়। তবে দিবসটির সূচনা ঠিক কবে বা কে করেছিলেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।
ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের ইতিহাস

ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের উৎপত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।


নামের সঙ্গে ফ্রান্সের সম্পর্ক থাকলেও বেলজিয়ামও এই খাবারের উদ্ভাবক হিসেবে দাবি করে।
একটি প্রচলিত মত অনুযায়ী, ১৭০০ শতকে বেলজিয়ামের মিউজ নদী এলাকার মানুষ ছোট মাছের বিকল্প হিসেবে আলু লম্বা করে কেটে তেলে ভাজতেন। অন্যদিকে অনেক খাদ্য ইতিহাসবিদের মতে, ১৮০০ শতকের শেষ দিকে ফ্রান্সে ‘পম ফ্রিত’ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং সেখান থেকেই আধুনিক ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের বিস্তার ঘটে। ফলে এর প্রকৃত উৎপত্তি নিয়ে এখনো ইতিহাসবিদদের মধ্যে ঐকমত্য হয়নি।

বিশ্ব ফ্রেঞ্চ ফ্রাই দিবসে সাধারণ ফ্রাইয়ের বদলে চেষ্টা করতে পারেন ভিন্ন স্বাদের কিছু আয়োজন—

চিলি চিজ ফ্রাই
ঝালপ্রেমীদের জন্য চিলি চিজ ফ্রাই হতে পারে দারুণ এক পছন্দ।


মচমচে ফ্রাইয়ের ওপর দেওয়া হয় মসলাদার চিলি, কিমা মাংস বা বিনসের তৈরি সস এবং প্রচুর গলানো চিজ। চিলির ঝাল, চিজের ক্রিমি স্বাদ ও ফ্রাইয়ের ক্রাঞ্চ—সব মিলিয়ে তৈরি হয় লোভনীয় এক খাবার। চাইলে এর সঙ্গে যোগ করা যায় জালাপেনো, স্প্রিং অনিয়ন বা সাওয়ার ক্রিম।

ক্রিসপি সেসামি হানি চিলি ফ্রাই
মিষ্টি, ঝাল ও নোনতা স্বাদের দারুণ সমন্বয় এই ফ্রাই। মচমচে ফ্রাইয়ের সঙ্গে মেশানো হয় হানি চিলি সস এবং ওপরে ছড়িয়ে দেওয়া হয় ভাজা তিল। যারা একটু ভিন্ন ধরনের ঝাঁঝালো স্বাদ পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে আদর্শ।

লোডেড ফ্রাই
সাধারণ ফ্রাইকে পূর্ণাঙ্গ খাবারে পরিণত করে লোডেড ফ্রাই। এতে ফ্রাইয়ের ওপর যোগ করা হয় চিজ, সাওয়ার ক্রিম, সালসা, গুয়াকামোল, বিনস, বেকন কিংবা বিভিন্ন হার্বস। ক্রিসপি, ক্রিমি ও চিজি স্বাদের এই ফ্রাই পার্টি বা আড্ডার জন্য বেশ জনপ্রিয়।

সুইট পাপরিকা ফ্রাই
যারা কম মশলায় ভিন্ন স্বাদ চান, তাদের জন্য সুইট পাপরিকা ফ্রাই হতে পারে ভালো বিকল্প। পাপরিকার হালকা ধোঁয়াটে স্বাদ ও মৃদু ঝাঁজ ফ্রাইকে দেয় আলাদা আকর্ষণ। সহজ হলেও স্বাদে এটি বেশ স্মরণীয়।

লেমন পেপার ফ্রাই
লেবুর সতেজতা ও গোলমরিচের ঝাঁজের মিশেলে তৈরি লেমন পেপার ফ্রাই ক্লাসিক ফ্রাইয়ের একটি নতুন রূপ। কেচাপের সঙ্গে পরিবেশন করলে এর স্বাদ আরো বাড়ে। যারা হালকা কিন্তু ফ্লেভারফুল খাবার পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে চমৎকার পছন্দ।

বিশ্ব ফ্রেঞ্চ ফ্রাই দিবসে তাই চাইলে একঘেয়ে স্বাদের বাইরে গিয়ে নতুন কোনো ফ্লেভারের ফ্রেঞ্চ ফ্রাই উপভোগ করতে পারেন। পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে ছোট্ট এই আয়োজনও দিনটিকে করে তুলতে পারে আরো আনন্দময়।

Link copied!