বাজারে পাম অয়েলের দাম একদিনে কমেছে মণপ্রতি ২৫০ টাকা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
বাজারে পাম অয়েলের দাম একদিনে কমেছে মণপ্রতি ২৫০ টাকা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর দেশের ভোজ্যতেলের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে যায়।
বিশেষ করে পাম অয়েলের দাম এক মাসে মণপ্রতি রেকর্ড ৭০০ টাকা বেড়েছিল। কিন্তু যুদ্ধবিরতির খবর আসার পর একদিনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমেছে ভোজ্যতেলের দর। এর মধ্যে পরিশোধিত পাম অয়েলের দাম মণপ্রতি ২৫০ টাকা বা কেজিপ্রতি ৬ টাকা ২৫ পয়সা পর্যন্ত কমেছে। পাম অয়েলের পাশাপাশি সয়াবিন ও সুপার পাম অয়েলের দামও নিম্নমুখী হয়েছে।
দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল পাইকারি লেনদেনের এসও/ডিও (সরবরাহ আদেশ) মার্কেট শুরু হলে ক্রেতা সংকট দেখা দেয়। আগের দিন প্রতি মণ পাম অয়েল সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল ৬ হাজার ৫৫০ টাকায়। যদিও যুদ্ধ শুরুর প্রথম সপ্তাহে পাইকারি পর্যায়ে মণপ্রতি পাম অয়েলের ডিও লেনদেন হয়েছিল সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৮৫০ টাকায়। যুদ্ধবিরতির প্রভাবে বৈশ্বিক দাম কমে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় মজুদ বা সংগ্রহে থাকা এসও বিক্রির হিড়িক লাগলে দ্রুত নিত্যপণ্যটির দরপতন শুরু হয়।
বাজার সূত্রে জানা গেছে, পাম অয়েলের পাশাপাশি সয়াবিনের দাম একদিনে মণপ্রতি ১০০ টাকা কমে লেনদেন হয়েছে ৭ হাজার ৪০০ টাকায়, সুপার পাম অয়েলের দাম মণপ্রতি ২০০ টাকা কমে লেনদেন হয়েছে ৬ হাজার ৫০০ টাকায়। দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ভোজ্যতেলের মধ্যে পাম অয়েলের চাহিদার কারণে দাম বেড়েছিল। এ কারণে চাহিদা কমায় দাম একদিনে সবচেয়ে বেশি কমেছে। খাতুনগঞ্জের পাশাপাশি দেশের আরেকটি বড় পাইকারি বাজার ঢাকার মৌলভীবাজারেও ভোজ্যতেলের দরপতন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. গোলাম মওলা বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ সংকট, দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে কিছুদিন ধরে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের বুকিং দামও ঊর্ধ্বমুখী। এ কারণে দেশের পাইকারি বাজারগুলোতে পাম অয়েলের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। পাম অয়েলের সঙ্গে সয়াবিন ও সুপার পাম অয়েলের বাজারও বেড়েছিল। এখন যুদ্ধ সাময়িক কিংবা স্থায়ী বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজার কমতে শুরু করেছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও দেশের ভোজ্যতেলের বাজারও আগের মতো স্থিতিশীলতায় ফিরতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে মণপ্রতি (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) দাম ছিল ৫ হাজার ৮৫০ টাকা।
যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত পাম অয়েলের দাম বেড়েছে সামান্য। কিন্তু পরিবহন (শিপিং চার্জ) বেড়ে যাওয়া, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহ সংকটসহ নানা ইস্যুতে দেশের বাজারে পাম অয়েলের বাজার ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। এরই মধ্যে ধাপে ধাপে পাম অয়েলের সর্বশেষ পাইকারি দাম উঠেছে ৬ হাজার ৫৫০ টাকায়। একইভাবে সুপার পাম অয়েলের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী।
 

Link copied!