বিএনপি নেতারা কথায় কথায় সংবিধানকে টানেন মন্তব্য করে লেখক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার বলেছেন, সংবিধান তো ‘শেখ হাসিনার লেখা একটা কাগজ’।
বিএনপি সরকার গঠনের দুই মাসের মাথায় গ্রামের অধিকাংশ মানুষ ‘সরকারবিরোধী’ অবস্থানে চলে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
শনিবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভায় ফরহাদ মজহার এ দাবি করেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের টানা দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান সংস্কারের ৪৮টি বিষয়ের ওপর গণভোট করেছে সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিন।
রাষ্ট্র সংস্কারে গ্রহণ করা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আন্দোলনে নেমেছে।
এর আগে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার আনা মুলতবি প্রস্তাবে ‘প্রতিকার না পাওয়ার’ অভিযোগ তুলে বুধবার ওয়াক আউট করে তারা।
এদিন ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিরোধী জোট। জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস শুক্রবার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ করবে এবং ২৪ এপ্রিল ঢাকায় গণসামবেশের কর্মসূচি নিয়েছে।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, “বিএনপির সালাউদ্দিন সাহেব থেকে শুরু করে অনেক নেতা-নেত্রী দেশের জনগণকে ভোটার বলেন এবং সংবিধান সংবিধান করেন।
“সংবিধান তো একটা কাগজ। এ কাগজ হাসিনার লেখা। এ কাগজ তো শেখ হাসিনাও দেখিয়েছেন আমাদেরকে। এই কাগজ দেখায়ে আমাদের কি বুঝাবেন?”
তার মতে, “এজন্যই গণসার্বভৌম মানে জনগণই কর্তা-সত্তা। এ ইতিহাসের কর্তা জনগণ। কিন্তু জনগণ আপনা-আপনি ইতিহাসের কর্তা-সত্তা হয়ে যায় না।”
বাংলাদেশের গ্রামীণ মানুষদের চেতনাগত একটা রূপান্তর এসেছে, এ মন্তব্য করে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “আমি গ্রামের ২০-২৫ জন মানুষের সাথে কথা বলে দেখলাম, অধিকাংশই সরকারের বিরোধী। আমি অবাক হয়েছি, তারা বিরোধী কেন? তারা বলছে বিএনপি সংবিধান সংবিধান করে কেন? ভোট হয়ে গেছে এখন তারা করবে করবে করে কেন?
“এই যে গ্রামের মানুষদের মধ্যে একধরনের সচেতনতা এসেছে এবং তারা যে শুধু ভোটার না, সে যে একটা নতুনভাবে বাংলাদেশ গঠন করার কর্তাও, এই বোধটুকু আসছে।”
রাজনৈতিক চিন্তাধারা বিনিময়ের প্ল্যাটফর্ম ‘ভাববৈঠকী’ আয়োজিত ‘সামাজ্রবাদী-জায়ানবাদী আগ্রাসন এবং ইরানের প্রতিরোধের রণকৌশল’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “আমাদের দেশের অনেকে মনে করেন এটা মোল্লাদের যুদ্ধ। এটা আসলে মোল্লাদের যুদ্ধ না। এটা জায়নবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।
“প্রত্যেক মানুষ যে দেশে জন্মগ্রহণ করেছে সেদেশের মাটিকে রক্ষা করা তার জন্য আমানত। সেখানে এটাকে মোল্লাদের যুদ্ধ বলে অভিহিত করার সুযোগ নেই। তাই, আমাদেরকে এ যুদ্ধকে সবসময় বাহ্যিকভাবে না দেখে স্পিরিচ্যুয়ালি দেখতে হবে।
স্বভাবতই আমরা এমন একটা সভ্যতার বিরুদ্ধে লড়াই করছি, যে সভ্যতা জলবায়ু বিপর্যয় তৈরি করেছে, গ্রহীয় বিপর্যয় তৈরি করেছে, শিল্পভিত্তিক সভ্যতা বানিয়ে পৃথিবীকে ধ্বংস করে দিয়েছে।”
জায়নবাদের বিরুদ্ধে, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ও মুদ্রা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মোহাম্মদ রোমেলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, ইরানের আল মুস্তাফা (সা.) আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি, ঢাকায় ইরানের দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর সৈয়দ রেজা মীর মোহাম্মদী উপস্থিত ছিলেন।

































