• ঢাকা
  • রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১, ৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

মৃত্যুর সময় অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন মুনিয়া


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২১, ১০:৩৬ এএম
মৃত্যুর সময় অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন মুনিয়া

আলোচিত কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়া মৃত্যুর সময় দুই থেকে তিন সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে তার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। 

সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এ বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবাহান আনভীরসহ আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা ও ধর্ষণের মামলা করেছেন মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া। মামলার এজাহারে মুনিয়ার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের সূত্রে তার অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি তুলে ধরেন মুনিয়ার বড় বোন।

মামলায় সায়েম সোবহান আনভীর ছাড়াও আসামি করা হয়েছে আনভীরের মা আফরোজা, আনভীরের স্ত্রী সাবরিনা, আনভীরের বাবা আহমেদ আকবর সোবহান, শারমিন, সাফিয়া রহমান মিম, মডেল পিয়াসা ও ইব্রাহীম আহমেদ রিপনকে।

আদালতের দাখিল করা হত্যা ও ধর্ষণের মামলা এজাহারের বলা হয়, মুনিয়ার মৃত্যুর পর যে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে, সেই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ভিকটিম ২-৩ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

মামলার আর্জিতে আরও বলা হয়, “মুনিয়া প্রতিদিন ডায়েরি লিখতেন। বাসায় তার লেখা চারটি ডায়েরি পাওয়া গেছে। যাতে আসামি আনভীরের সঙ্গে মেলামেশা ও শারীরিক সম্পর্কের কথা তারিখ দিয়ে লেখা রয়েছে।”

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, ‘ভিকটিম ২-৩ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ভিকটিম ১ নম্বর আসামিকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। এতে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি অপর আসামিদের মধ্যে প্রকাশ পেলে তারা পারিবারিক সুনাম-সুখ্যাতি রক্ষায় ভিকটিমকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। 

এজাহারে মুনিয়াকে হত্যার আগে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে বলা হয়, অত্র মামলার আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ঘটনার তারিখ ভিকটিমকে বাসা থেকে পালানোর সুযোগ না দিয়ে বাসায় আটকে রেখে কিলিং মিশনের মাধ্যমে ভিকটিমকে ধর্ষণোত্তর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে সুকৌশলে ঘটনাকে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য ভিকটিমের লাশ ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখে। তদন্ত রিপোর্টে ভিকটিমের সঙ্গে মৃত্যুর পূর্বে Intercourse এর প্রমাণ মিলেছে, অর্থাৎ ভিকটিম মৃত্যুর পূর্বে ধর্ষিত।

গত ২৬ এপ্রিল রাতে গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে ২১ বছর বয়সী মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে আনভীরের বিরুদ্ধে মামলা করেন মুনিয়ার বোন। সেই মামলা থেকে সায়েম সোবহান আনভীরকে প্রথমে অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় গুলশান থানা-পুলিশ। পরে আদালত সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।

Link copied!