ভারতে চলমান আন্দোলন তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০১:১২ এএম
ভারতে চলমান আন্দোলন তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন এবং তা দমনে সরকারের নীতি নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এ ঘটনাকে দেশটির ‘অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়’ হিসেবে অভিহিত করে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ না করার অবস্থান ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বর্তমানে ভারত সফরে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) মুম্বাইয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভারতের আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক উদ্বেগের বিষয়টি তোলা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রসিকতার ছলে তা উড়িয়ে দেন। তিনি জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের কটাক্ষ করে বলেন, ‘জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা হলো অর্থহীন এক সত্তা। এটি পুরোপুরি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়। আমি তাদের রাজনীতিতে জড়াতে চাই না। ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ এবং এখানে নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তাই তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে আমার মন্তব্য করা সমীচীন নয়।’

রুবিও আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রেও প্রতিদিন নানা বিষয়ে নাগরিকেরা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রকাশ করে থাকেন। সব দেশের রাজনৈতিক পরিবেশই এমন ও এটি গঠনমূলক ভিন্নমতেরই বহিঃপ্রকাশ। তবে ইউরোপের মতো ভাঙচুর, সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামার মতো ঘটনাকে সমর্থন করেন না বলেও জানান তিনি।

এর আগে  মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ২০ জনেরও বেশি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ এক যৌথ বিবৃতিতে ভারতে চলমান ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিপেটা, বায়োমেট্রিক নজরদারি ও আন্দোলন দমনে ইন্টারনেট বন্ধের অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে স্বাধীন তদন্তেরও দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করব না। এটি ভারতের জনগণই নির্ধারণ করবে এবং সমাধান করবে।’


বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সম্প্রতি ভারতে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন বিক্ষোভ করছে। বিক্ষোভকারী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোর দাবি, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে যোগ্য ভোটারদের একটি বড় অংশ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁদের। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে এমনভাবে এসব পরিবর্তন করা হচ্ছে, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপিকে বিশেষ সুবিধা দেবে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় দরিদ্র, গৃহহীন, মুসলিমসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষ তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, এসব জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ বিজেপিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা কম হওয়ায় ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট।

তবে বিজেপি ও ভারতের নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

Link copied!