ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি পেশায় একজন চিকিৎসক, যিনি সম্প্রতি কঙ্গো থেকে একটি মানবিক মিশন শেষ করে দেশে ফিরেছেন।
ইউরোপের মাটিতে এটিই প্রথম নিশ্চিত হওয়া ইবোলা সংক্রমণের ঘটনা।
বুধবার (২৪ জুন) ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আক্রান্ত চিকিৎসককে শনাক্ত করার পরেই একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। এই ঘটনার পর কঙ্গো থেকে ফিরে আসা সাহায্য ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করেছে ফ্রান্স সরকার।
একই সঙ্গে আক্রান্ত চিকিৎসকের সংস্পর্শে কারা এসেছিলেন, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
কঙ্গোতে গত মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসটি তার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই ছড়াচ্ছিল। মধ্য আফ্রিকার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে ২৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ১,০০০ জনেরও বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি, দক্ষিণ কিভু ও উত্তর কিভু প্রদেশগুলোতে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি।
এর মধ্যে ইতুরিতেই ৯০ শতাংশের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত ৭৫ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে ১৭ জনই মারা গেছেন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি ইবোলার ‘বান্ডিবুগিও’ প্রজাতির কারণে ঘটছে, যার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও ইবোলা ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ২০ জন সংক্রমিত এবং দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ডব্লিউএইচও সতর্ক করেছে যে, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ‘এম২৩’ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চলমান সংঘাতের কারণে সেখানে ইবোলা মোকাবিলা করা চরম কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং আফ্রিকা সিডিসি-র মতে, এই প্রাদুর্ভাবটি ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ইবোলা বিপর্যয় হতে পারে।
































