ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা দক্ষিণ লেবাননের এলাকাগুলোতে দখলদারিত্ব বজায় রাখার বিষয়ে তাদের পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জারি করা একটি যৌথ বিবৃতিতে তারা এই মন্তব্য করেন। এই বিবৃতিটি নেতানিয়াহু, সামরিক বিষয়ক মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ, জেনারেল স্টাফের প্রধান ইয়াল জামির এবং নর্দার্ন কমান্ডের প্রধান ওরি গর্ডিনের মধ্যে একটি বৈঠকের পর দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে হুমকি নিষ্ক্রিয় করা, ‘সন্ত্রাসবাদী অবকাঠামো’ ধ্বংস এবং দক্ষিণ লেবাননে একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ বজায় রাখতে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের এই বিবৃতিটি এমন এক সময়ে এলো যার ঠিক একদিন আগে সুইজারল্যান্ডে পাকিস্তানি ও কাতারি মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ১৮ ঘণ্টা স্থায়ী হওয়া এই উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনায় গত সপ্তাহে ইরানি ও মার্কিন প্রেসিডেন্টদের স্বাক্ষরিত পাকিস্তান-মধ্যস্থতাধীন সমঝোতা স্মারকের অধীনে প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হলো গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিলের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বশেষ উস্কানিমূলক মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতির অবসান ঘটানো। উল্লেখ্য, ইরানের জোরালো পাল্টা আঘাতের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন।
সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে, ইরান লেবাননসহ সব ফ্রন্টে আগ্রাসন বন্ধের ওপর জোর দিয়েছে।
এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল যে, ইসরায়েলি পক্ষ লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।
নেতানিয়াহুর এই বিবৃতিটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন ওয়াশিংটনে বৈরুত সরকার ও ইসরায়েলের মধ্যে মঙ্গলবার (২৩ জুন) পঞ্চম দফা আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
আলোচনার আগে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সোমবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক ফোনালাপে দেশের জন্য একটি ‘সংঘাত নিরসন প্রক্রিয়া’ নিয়ে আলোচনা করেন।
লেবাননের প্রেসিডেন্সির মতে, এই ফোনালাপে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি সুসংহত করার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে।
হিজবুল্লাহ অবশ্য আসন্ন এই আলোচনার সমালোচনা করেছে। একইসঙ্গে লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
রবিবার সুইজারল্যান্ডে মার্কিন-ইরান আলোচনার প্রথম দফায় মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তান জানিয়েছে যে, লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করতে দলগুলো একটি ‘সংঘাত নিরসন সেল’ গঠনে সম্মত হয়েছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তারা দেয়নি।
ভ্যান্স পরে সাংবাদিকদের জানান, এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো ছোটখাটো ঘটনা যেন ‘ব্যাপক উত্তেজনায়’ রূপ না নেয় তা প্রতিরোধ করা।
সুইজারল্যান্ডে আলোচনার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরানের ওপর যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে, তবে ‘আসল পরীক্ষা’ হবে লেবাননে যুদ্ধবিরতির সফল বাস্তবায়ন।
সোমবার (২২ জুন) ভোরে এক্স-এ একটি পোস্টে আরাঘচি লিখেন, “ক্লান্তিহীন পাকিস্তানি ও কাতারি মধ্যস্থতা লেবানন যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি এনেছে। তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে, অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে, কিছু অবরুদ্ধ থাকা সম্পদ অবমুক্ত করা হয়েছে এবং ইরানের জন্য একটি বড় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা শুরু করা হয়েছে। প্রথম আসল পরীক্ষা: লেবানন সংঘাত নিরসন সেল।”
লেবাননের কর্তৃপক্ষের মতে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৪ হাজার ১৭৫ জন নিহত, ১২ হাজার ১৬৪ জন আহত এবং ১০ লাখের বেশি বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।






































