ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার আরও কাছে মাস্ক


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম
ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার আরও কাছে মাস্ক

ট্রিলিয়নিয়ার বা এক লাখ কোটি ডলার সম্পদের মালিক হওয়ার আরও কাছে পৌঁছে গেছেন ইলন মাস্ক। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং মহাকাশ প্রযুক্তি কোম্পানি স্পেসএক্সে তার বিপুল মালিকানার কারণে কাগজে-কলমে এরমধ্যেই এক ট্রিলিয়ন ডলারের সীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে তার সম্পদের মূল্য।

ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯৮২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। তবে স্পেসএক্সের সাম্প্রতিক আইপিও মূল্যায়নের পর তার সম্পদের পরিমাণ আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্পেসএক্সের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির প্রায় অর্ধেক শেয়ারের মালিক মাস্ক। এর মধ্যে রয়েছে এমন কিছু শেয়ারও, যেগুলো ভবিষ্যতে অর্জন করতে পারবেন তিনি। যদি নির্দিষ্ট কিছু উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হন। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে মহাকাশে তথ্যকেন্দ্র স্থাপন এবং মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি গড়ে তোলা। বৃহস্পতিবারের আইপিও মূল্য অনুযায়ী স্পেসএক্সে মাস্কের শেয়ারের মূল্য প্রায় ৮৬৭ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে ২০০৪ সালে বিনিয়োগকারী হিসেবে টেসলায় যুক্ত হওয়া মাস্ক বর্তমানে কোম্পানিটির প্রায় ১২ শতাংশ শেয়ারের মালিক। এ ছাড়া আরও প্রায় ৮ শতাংশ শেয়ার কেনার অধিকার রয়েছে তার। ২০০৮ সাল থেকে টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

টেসলা ও স্পেসএক্সে মাস্কের মালিকানাধীন শেয়ারের সম্মিলিত মূল্য এক দশমিক এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশ্লেষণে। তবে এই হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ভবিষ্যতে অর্জনযোগ্য কিছু শেয়ারও।

বিশ্লেষকদের মতে, মাস্কের ট্রিলিয়নিয়ার মর্যাদা পাওয়ার বিষয়টি মূলত নির্ভর করছে তার সম্পদ কীভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে তার ওপর। কারণ স্পেসএক্সের দেওয়া কিছু শেয়ার কেবল তখনই কার্যকর হবে, যখন তিনি কোম্পানির মূল্য আরও বাড়াতে পারবেন এবং মঙ্গল গ্রহে মানব উপনিবেশ স্থাপনের মতো দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জন করবেন।

এসব সম্ভাব্য শেয়ার বাদ দিলে তিনি এখনো ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার সীমার কিছুটা নিচে অবস্থান করছেন

মাস্কের সম্পদের বড় অংশ এসেছে তার প্রতিষ্ঠিত বা সহ-প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি থেকে। তিনি টেসলা, স্পেসএক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সএআইসহ সাতটি প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। ২০২২ সালে তিনি ৪৪ বিলিয়ন ডলারে টুইটার অধিগ্রহণকারী বিনিয়োগকারী দলের নেতৃত্ব দেন। পরে ২০২৫ সালে টুইটারকে এক্সএআইয়ের সঙ্গে একীভূত করা হয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্পেসএক্স এক্সএআইকে অধিগ্রহণ করে, যার ফলে একীভূত প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন দাঁড়ায় প্রায় ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার।

এ ছাড়া টানেল নির্মাণ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান দ্য বোরিং কোম্পানি এবং মস্তিষ্কে চিপ প্রতিস্থাপন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা নিউরালিংকেরও প্রতিষ্ঠাতা তিনি। দুটি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ পেয়েছে।

ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, মাস্কের বর্তমান সম্পদ বিশ্বের পরবর্তী চার শীর্ষ ধনীর সম্মিলিত সম্পদের প্রায় সমান। এ তালিকায় রয়েছেন গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন।

তবে স্পেসএক্সের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের শুরু থেকে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার লোকসান করেছে। এর প্রধান কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ।

মাস্কের পারিশ্রমিক কাঠামোও অন্যদের তুলনায় ব্যতিক্রম। তিনি সাধারণ বেতনের পরিবর্তে বিভিন্ন উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে যুক্ত শেয়ারভিত্তিক পুরস্কার পেয়ে থাকেন। টেসলায় ১০ লাখ মানবসদৃশ রোবট সরবরাহের মতো লক্ষ্য পূরণ করলে তিনি আরও বড় পরিমাণ শেয়ার পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, স্পেসএক্সের শেয়ারের মূল্য আরও বাড়লে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যভিত্তিক শেয়ারগুলো কার্যকর হলে ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার ইতিহাস গড়তে পারেন।

Link copied!