গত সপ্তাহে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের নিট আমদানি অর্থাৎ আমদানি ও রফতানির পার্থক্য কমে দাঁড়িয়েছে দিনে ৬৬ হাজার ব্যারেল, যা ২০০১ সালে পরিসংখ্যান নথিবদ্ধ শুরুর পর থেকে সাপ্তাহিক ডাটায় সর্বনিম্ন। একই সময়ে রফতানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে দিনে ৫২ লাখ ব্যারেল (বিপিডি), যা সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তোলিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঘাটতি পূরণে ব্যাপকভাবে বিকল্প উৎস খুঁজছেন ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতারা। এর নগদ ফল হিসেবে গত সপ্তাহে মার্কিন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চালান রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো প্রায় নিট রফতানিকারক হয়ে ওঠার পরিস্থিতিতে চলে আসে দেশটি। খবর রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। ইরানের হুমকির কারণে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহনের রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল এশিয়া ও ইউরোপের পরিশোধনগারগুলো যেকোনো উৎস থেকে বিকল্প কার্গো কেনার দিকে ঝুঁকেছে। এতে বিশ্বের অন্যতম জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের তেলের চাহিদা দ্রুত বেড়ে যায়।
তবে বিশ্লেষক ও ট্রেডাররা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত তার রফতানি সক্ষমতার সীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে।
মার্কিন সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত সপ্তাহে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের নিট আমদানি অর্থাৎ আমদানি ও রফতানির পার্থক্য কমে দাঁড়িয়েছে দিনে ৬৬ হাজার ব্যারেল, যা ২০০১ সালে পরিসংখ্যান নথিবদ্ধ শুরুর পর থেকে সাপ্তাহিক ডাটায় সর্বনিম্ন। একই সময়ে রফতানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে দিনে ৫২ লাখ ব্যারেল (বিপিডি), যা সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বার্ষিক ভিত্তিতে দেখা গেলে, যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ ১৯৪৩ সালে নিট জ্বালানি তেল রফতানিকারক ছিল।
রাইস্টাডের তেলবাজার বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট জানিভ শাহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি প্রমাণ করছে যে আটলান্টিক বেসিন ও এশিয়ার ক্রেতারা সরবরাহের জন্য আরো দূরের উৎসের দিকে ঝুঁকছে। গ্রিসের মতো দেশ সাম্প্রতিক মাসগুলোয় প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনেছে।
শিপ ট্র্যাকিং সেবাদাতা কেপলারের তথ্যানুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানির প্রায় ২৪ লাখ বিপিডি বা ৪৭ শতাংশ ইউরোপের দিকে গেছে। প্রায় ১৪ লাখ ৯০ হাজার বিপিডি বা ৩৭ শতাংশ গেছে এশিয়ার দিকে, যা এক বছর আগের ৩০ শতাংশ থেকে বেশি।
প্রধান ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, জাপান, ফ্রান্স, জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়া।
কেপলার তথ্য অনুযায়ী, ৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বহনকারী একটি জাহাজ তুরস্কের দিকে যাচ্ছে, যা অন্তত এক বছরের মধ্যে দেশটিতে প্রথম মার্কিন জ্বালানি তেল রফতানি।
মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ বিঘ্নের কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) প্রিমিয়ামের পার্থক্য গত মাসে ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ্চ ২০ ডলার ৬৯ সেন্টে পৌঁছে যায়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের আমদানির আগ্রহ কমে যায় এবং ইউরোপ ও এশিয়ার অপরিশোধনাগারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তেল আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
এলএসইজি তথ্য ও ট্রেডারদের মতে, ইউরোপে দ্রুত সরবরাহযোগ্য অপরিশোধিত তেলের দাম সোমবার ব্যারেলপ্রতি রেকর্ড ১৫০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়, আর আফ্রিকার জ্বালানি তেলের দামও নতুন শীর্ষে ওঠে।
কেপলারের বিশ্লেষক ম্যাট স্মিথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি চলতি মাসে প্রায় ৫২ লাখ বিপিডিতে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং মাসিক ভিত্তিতে রফতানি এখন সক্ষমতার সীমার চাপ অনুভব করছে।
রাইস্টাডের শাহ বলেন, জাহাজের ঘাটতি ও উচ্চ ফ্রেইট রেট রফতানি চাহিদাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
ভর্টেক্সার জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক রোহিত রাঠোড় বলেন, বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৮০টি খালি সুপারট্যাংকার মেক্সিকো উপসাগরের দিকে যাচ্ছে, যা এপ্রিল ও মে মাসে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।






























