• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪৫

পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক সংঘর্ষ, নিহত ১


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ১০, ২০২৩, ১০:৪৭ এএম
পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক সংঘর্ষ, নিহত ১

ইসলামাবাদ হাইকোর্ট (আইএইচসি) প্রাঙ্গণ থেকে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান ইমরান খানের গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও সহিংসতা শুরু হয়েছে। হাই সিকিউরিটি জোনগুলোতে পিটিআইয়ের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বিভিন্ন শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেও বিক্ষোভ ঠেকানো যাচ্ছে না। উল্টো লাহোরে সেনানিবাসে হামলা চালিয়েছেন বিক্ষুব্ধ পিটিআই কর্মী-সমর্থকেরা। এদিকে কোয়েটা থেকে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইন্টারনেট সেবা।

বুধবার (১০ মে) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। এতে বলা হয়, ইমরানের গ্রেপ্তারের পর সরকার এবং বিরোধী দল পিটিআই দাবি ও পাল্টা দাবি জানিয়েছে। পিটিআই  গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছে অন্যদিকে সরকারপক্ষ মনে করে সঠিক কাজ হয়েছে।

ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পরপরই দেশ অচল করে দেওয়ার ডাক দিয়েছেন পিটিআইয়ের নেতা-কর্মীরা। সমর্থকদের রাজপথে নেমে আসতে বলা হয়েছে।

পিটিআইয়ের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে লেখা হয়েছে, পাকিস্তানের জনগণ এখন আপনাদের সময়। ইমরান খান সব সময় আপনাদের পাশে ছিলেন। এখন সময় তার পাশে দাঁড়ানোর।

দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্যেষ্ঠ নেতারা ইতোমধ্যে জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছেন। কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা ওই বৈঠক থেকে ঠিক করা হবে।

এদিকে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে টুইটার এবং অন্যান্য কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করা হয়েছে।

ইমরান খানের ক্ষুব্ধ সমর্থকরা রাওয়ালপিন্ডিতে অবস্থিত দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে ঢুকে পড়েন। এ ছাড়া সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের দপ্তরগুলোতে হামলা-ভাঙচুর করা হয়। রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাবাহিনীর জেনারেল সদর দপ্তরের একটি গেট অবরোধ করে।

প্রতিবাদী জনতার মধ্যে কয়েকজনকে কর্পস কমান্ডারদের বাড়ির বাইরে নিরাপত্তাকর্মীদের বলতে শোনা যায়, ‘সতর্ক করেছিলাম, ইমরান খানকে হয়রানি করবেন না।’

এ ছাড়া করাচি ও লাহোরে সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ছুড়েছে। অপর দিকে ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি, ফয়সালাবাদ, মুলতান, কোয়েটায় রাস্তা অবরোধ করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

পেশোয়ারের ১৪৪ ধারা জারি করার পরও সেখানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।

কোয়েটা, মুলতান ও পেশোয়ারের বিভিন্ন স্থানের ভিডিওতে দেখা যায়, হাজারো বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে এসেছেন। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন তারা। বিভিন্ন স্থানে গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ ইমরান-সমর্থকেরা।

পিটিআই কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই পুলিশ কর্মকর্তা-তাহির সিকান্দার ও চৌধুরী রিয়াজ আহত হয়েছেন। দুই শহরে মেট্রো বাস পরিষেবাও স্থগিত করা হয়েছে।

কোয়েটায় বিক্ষোভকারী পিটিআই কর্মী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে ছয় পুলিশ সদস্যসহ ১২ জনের বেশি আহত ও একজন নিহত হয়েছেন। বালতিস্তানে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন পয়েন্টে সড়ক অবরুদ্ধ করে দিয়েছেন, ফরে অসংখ্য যাত্রী পথে আটকা পড়ে।

Link copied!