আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আগ মুহূর্তে ড্রোন হামলায় বেসামরিক নাগরিক হত্যার ঘটনায় ক্ষমা চাইল যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক ভুল’ স্বীকার করে বিবৃতি প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।
স্থানীয় সময় শুক্রবার পেন্টাগন জানায়, গত মাসে কাবুলে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইসলামিক স্টেট তথা স্থানীয় আইএস-কে জঙ্গি ভেবে বদলে ভুলবশত সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তদন্তে এই তথ্য বেরিয়ে আসে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেন, “আমরা এখন জানি যে আহমদী ও আইএস-কের মধ্যে কোন সম্পর্ক ছিল না। তারা সম্পূর্ণরূপে নিরপরাধ এবং আমরা যে হামলার আশঙ্কা করেছিলাম তার সঙ্গেও নিহতরা জড়িত ছিল না।”
ভুল স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, “আমরা ক্ষমাপ্রার্থী এবং এই মর্মান্তিক ভুল থেকে আমরা শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করব।”
২৬ অগস্ট কাবুল বিমাবন্দরের বাইরে আত্মঘাতী হামলার জেরে ৩০ আগস্ট আফগানিস্তানের স্থানীয় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস-কে সদস্যদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী। এ হামলায় রকেট হামলায় প্রস্তুতর আইএস সদস্য নিহত হয় বলে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ড্রোন হামলায় কোন আইএস-কে জঙ্গি মারা যায়নি। বরং অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া আহমদী নামের এক আফগান কর্মী ও তার পরিবারের ৭ শিশুসহ ১০ জন নিহত হয়। এছাড়াও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মৃত ব্যক্তির হাতে কোন রকেট ছিল না, ছিল পানির পাত্র।
২৬ অগস্ট কাবুল বিমাবন্দরের বাইরে আত্মঘাতী হামলায় ১৩ জন মার্কিন সেনাসহ অন্তত ১৭০ জন নিহত হন। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নির্দেশেই দুটি হামলা চালায় সেনারা।


































