আফগানিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নারীদের পড়াশোনা নিষিদ্ধ করল তালেবান। এর আগে নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য বিষয় নির্ধারণ করে দিলেও এবার উচ্চশিক্ষায় নারীদের সুযোগ বন্ধই করে দিল তালেবান সরকার।
বিবিসি জানায়, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দার সম্মুখীন হচ্ছে দেশটি। এ ছাড়া হতাশা দেখা দিয়েছে দেশটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আফগানিস্তানে নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও সীমিত হলো।
তালেবান সরকারের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী এক চিঠিতে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ নির্দেশনা পাঠিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের উপরাষ্ট্রদূত রবার্ট উড তালেবানের সর্বশেষ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, “তালেবান যতক্ষণ না সকল আফগান নাগরিকের অধিকারের স্বীকৃতি দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৈধ সদস্য হওয়ার কোনো আশা তাদের নেই। বিশেষ করে নারী এবং মেয়েদের মানবাধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতা তাদের নিশ্চিত করতে হবে।”
মাত্র তিন মাস আগে আফগানিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থী সেখানে অংশ নেয়। তবে নারীদের পড়ার বিষয় নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল তারা। বলে দেওয়া হয়েছিল ভেটেরিনারি, প্রকৌশল, অর্থনীতি এবং কৃষি শিক্ষা মেয়েদের জন্য নয়। আর সাংবাদিকতায় মেয়েরা পুরোপুরি নিষিদ্ধ।
এর আগে ক্ষমতায় এসেই তালেবান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্লাসরুমের মধ্যে পর্দা টানিয়ে ছাত্রীদের বসার জায়গা ছাত্রদের থেকে আলাদা করে দেয়। পাশাপাশি আসা-যাওয়ার গেটও আলাদা করে দেওয়া হয়।
তবে এবার সবকিছু ছাপিয়ে নারীদের উচ্চশিক্ষা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিল তালেবান সরকার। শিক্ষার্থীরা ধারণা করছেন, তালেবানরা নারী শিক্ষাকে ভয় পায়।
গত নভেম্বর মাসে তারা নারীদের পার্কে যাওয়াও বন্ধ করে দেয়। এমনকি বাচ্চা সঙ্গে নিয়েও মায়েদের পার্কে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
































