পুলিশ হেফাজতে মাসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনকে ‘দাঙ্গা’ হিসেবে অভিহিত করে এক আন্দোলনকারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ইরান। রোববার (১৩ নভেম্বর) এই রায় দেয় ইরানের এক আদালত।
এএফপি জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি ইরানের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে। সেখানে বলা হয়, একটি সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ, জনশৃঙ্খলা বিঘ্ন, জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনে ষড়যন্ত্র, দুনিয়ায় দুর্নীতি ও স্রষ্টার বিরুদ্ধতার অপরাধে ওই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনে ষড়যন্ত্র, সমাবেশ ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নের দায়ে পাঁচ ব্যক্তিকে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন তেহরানের অপর একটি আদালত।
তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন দণ্ডপ্রাপ্তরা।
চলমান বিক্ষোভকে ‘দাঙ্গা’ অভিহিত করে এখন পর্যন্ত ৭৫০ আন্দোলনকারীকে অভিযুক্ত করেছে ইরান। কারাগারে আটক আছে আরও অসংখ্য আন্দোলনকারী। এই সংখ্য প্রায় ১৫ হাজার। তবে এই দাবি অস্বীকার করছে দেশটির সরকার।
নরয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস শনিবার (১২ নভেম্বর) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বিক্ষোভে মারা গেছেন ৩২৬ জন। নিহতদের বেশিরভাগের মৃত্যুর জন্যই দায়ী ইরানের নিরাপত্তাবাহিনী।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর ইরানের কঠোর পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ২২ বছর বয়সী মাসা আমিনিকে তেহরানে আটক করে ইরানের নৈতিকতা পুলিশ। তাদের হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি অজ্ঞান হয়ে কোমায় চলে যান। এর তিন দিন পর (১৬ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ যদিও বলছে, হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে মেয়েটি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।























