মোদিকে ব্যঙ্গ

আম্বানিকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ ডাকলেন ইলন মাস্ক


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: অক্টোবর ১০, ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
আম্বানিকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ ডাকলেন ইলন মাস্ক

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর অনুমতি নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক।

শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্যঙ্গ করে রিলায়েন্স গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানিকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ বলে সম্বোধন করেন।

টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী মাস্ক লেখেন, ‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই যে ভারতের প্রকৃত বস, তা বুঝতে না পারার জন্য আমার বিনীত ক্ষমা গ্রহণ করুন।’

এরপর তিনি প্রশ্ন করেন, ভারতের মানুষের ওপর একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ বজায় রাখতে চাইলেও আম্বানি স্টারলিংককে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ দেবেন কি না।

মাস্কের দাবি, ভারতের অনেক এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ নেই। এর ফলে শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বিশ্ববাজারে পণ্য বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে না। স্টারলিংক চালু হলে এসব মানুষের জীবন উন্নত হবে বলে দাবি করেন তিনি।

স্টারলিংক স্পেসএক্সের মালিকানাধীন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা। ভারতে এ ধরনের সেবা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের টেলিযোগাযোগ লাইসেন্স পেয়েছে আরও দুটি প্রতিষ্ঠান— ভারতী গোষ্ঠীর সমর্থনপুষ্ট ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং জিও প্ল্যাটফর্মসের পুরো মালিকানাধীন জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস লিমিটেড।

তবে সেবা চালুর আগে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত শর্ত পূরণের প্রমাণ দিতে হবে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিরাপত্তা যাচাই চলছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

বুধবার এক্সে এক ব্যবহারকারীর পোস্টের জবাবে মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতের কয়েকজন ‘প্রভাবশালী ব্যবসায়ী’ একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে স্টারলিংকের কার্যক্রম আটকে দিচ্ছেন। তিনি একে ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ বলে উল্লেখ করেন।

বৃহস্পতিবার ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জানায়। মন্ত্রণালয় বলেছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগসহ সব টেলিযোগাযোগ সেবার জন্য সরকার ন্যায্য ও বৈষম্যহীন অনুমোদনব্যবস্থা চালু রেখেছে।

একই দিন মাস্ক আবার প্রশ্ন তোলেন, ভারতের সব আইন ও শর্ত মেনে চলার পরও কেন স্টারলিংক লাইসেন্স পায়নি। তার দাবি, বিশ্বের ১৬৫টির বেশি দেশে স্টারলিংকের কার্যক্রমের অনুমতি রয়েছে এবং ভারতে অনুমোদন পেতে প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ বছর ধরে কাজ করছে।

শুক্রবারের পোস্টে মাস্ক আরও দাবি করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অন্য যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে মানুষের জীবন বাঁচাতে স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভারতে সেবা চালুর অনুমতি পেলে দেশটির নারী, পুরুষ ও শিশুদের জীবন রক্ষায়ও প্রতিষ্ঠানটি সহায়তা করতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র : এনডিটিভি 

Link copied!