বিশ্ববাজারে বুধবার জ্বালানি তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। মূলত দুটি বড় কারণে তেলের বাজারে এই দরপতন ঘটেছে- প্রথমত, সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে’ আবারও অপরিশোধিত তেল সরবরাহ শুরু হওয়া এবং দ্বিতীয়ত, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার একটি কূটনৈতিক সমাধানের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হওয়া।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (০১:১৯ জিএমটি) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৭ সেন্ট বা ০.০৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৯.১৮ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও আনুপাতিক হারে কমেছে। ডব্লিউটিআই-এর দাম ৩৫ সেন্ট বা ০.৩৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০.১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের দামে এই পতনের অন্যতম প্রধান কারণ হলো বিশ্বজুড়ে সরবরাহজনিত উদ্বেগ কমে আসা। লোহিত সাগরের দিকে যাওয়া সৌদি আরবের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটিতে সম্প্রতি যে বিঘ্ন ঘটেছিল, তা কাটিয়ে আবারও অপরিশোধিত তেল সরবরাহ চালু করেছে দেশটি।
বৈশ্বিক জ্বালানি চলাচলের ক্ষেত্রে এই পাইপলাইনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ার ফলে বাজারে তেল সরবরাহের ঘাটতি নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
এর পাশাপাশি বিশ্বরাজনীতির ইতিবাচক প্রভাবও পড়েছে তেলের বাজারে। নিউইয়র্কে চলমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ কিছুটা নিম্নমুখী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দেশ দুটির মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি কার্যকর কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি বা বড় ধরনের সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের এই ইঙ্গিত বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ চেইনের ঝুঁকি বা ‘রিস্ক প্রিমিয়াম’ এক ধাক্কায় কমিয়ে দিয়েছে।
মূলত সৌদি আরবের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার বাস্তব পদক্ষেপ এবং নিউইয়র্কে কূটনৈতিক অগ্রগতির ইতিবাচক প্রত্যাশার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেলের ফিউচার মার্কেটে। যার ফলস্বরূপ সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে এসে বিশ্ববাজারে তেলের দামে এই স্বস্তিদায়ক পতন দেখা গেল।


































