যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ ও টানাপড়েনের মধ্যেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে যাচ্ছে ইরানের ছোট একটি প্রতিনিধিদল। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও এতে যোগ দেবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি গতকাল সোমবার নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন। পেজেশকিয়ানের আজ মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা রয়েছে।
ইরান কয়েক দশক ধরে জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে অংশ নিয়ে আসছে। তবে এবার পরিস্থিতি আলাদা। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ চলার মধ্যেই ইরানের প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ‘মূল প্রতিনিধিদলকে’ নিউ ইয়র্কে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এতে পেজেশকিয়ান ও আরাকচি রয়েছেন। তবে গত বছরের তুলনায় এবারের প্রতিনিধিদল ছোট হবে।
ভিসা চুক্তির আওতায় অনুমোদিত ইরানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীরা এ দলের সঙ্গে থাকবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতিসংঘের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইরানের মূল প্রতিনিধিদলকে অধিবেশনে যোগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
তবে নিউ ইয়র্কে তাদের চলাচলে বিধিনিষেধ থাকবে। বিলাসপণ্য কেনার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
এর আগে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্যকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায় মার্কিন প্রশাসন। ভিসা না পাওয়া সদস্যদের মধ্যে পেজেশকিয়ানের মিডিয়া টিমের কয়েকজন সদস্যও রয়েছেন।
সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্যকে ভিসা দেওয়া হয়নি।
ইরানের ভাষায়, এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ‘নজিরবিহীন’ পদক্ষেপ। ইরানি বার্তা সংস্থা মেহেরও প্রেসিডেন্টের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে একই তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে পেজেশকিয়ানের।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটির সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা হিসেবে পেজেশকিয়ানই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন।
এ কারণে তার এবারের নিউ ইয়র্ক সফরকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
ভিসা না দেওয়ার ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘তথ্য পাওয়ার অধিকার পদদলিত করার’ অভিযোগ তুলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কী পরিস্থিতি
দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরানে নতুন কোনো মার্কিন হামলার খবর প্রকাশ্যে আসেনি। তবে যুদ্ধ শেষ হয়নি; বরং নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান নিয়ে তিনি ‘সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে’ রয়েছেন। সামনে ‘বড় কিছু’ ঘটতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
একই সময়ে ইরান সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থের ওপর পাল্টা হামলা চালানো হবে।
ইরানের সামরিক কমান্ডও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের সমর্থন নিয়ে আবার হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন তথ্য তারা পেয়েছে।
কয়েক দশক ধরেই ইরানের নেতারা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অংশ নিয়ে আসছেন। ২০১৫ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বিশ্বনেতাদের সামনে ইরানের পারমাণবিক চুক্তিকে ‘যুদ্ধের ওপর বিজয়’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
এবার অবশ্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন কোনো আলোচনা শুরুর স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই।
জাতিসংঘের অধিবেশন চলাকালে পেজেশকিয়ানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস। অন্য ইরানি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দেবে পররাষ্ট্র দপ্তরের কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগ।
ইরানি প্রতিনিধিদলের চলাচলও সীমিত থাকবে। জাতিসংঘের সদর দপ্তর, জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর ও নিউইয়র্কে ইরানের মিশনের নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যেতে হলে তাদের আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুমতি নিতে হবে।
এবারের অধিবেশনে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দেয়নি। তার ভিডিওর মাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র : সিএনএন




































