মনোনয়নবঞ্চিত তারকারা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
মনোনয়নবঞ্চিত তারকারা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন শোবিজ অঙ্গনের কয়েকজন তারকা শিল্পী। সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাদের নাম ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আলোচনায় থেকেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাননি শোবিজের কোনো তারকা। এ কারণে শোবিজ অঙ্গনে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কিছু তারকা দলের জন্য বিনেদিত থেকেও মনোনয়নের দৌড়ে ছিটকে পড়েছেন। আবার কয়েকজন তারকা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার পর থেকেই সমালোচিত হয়েছেন। সব মিলিয়ে সংস্কৃতি অঙ্গনের ভাগ্যে জোটেনি সংরক্ষিত কোনো নারী আসন। গত ১৭ ও ১৮ এপ্রিল প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

ব্ল্যাক ডায়মন্ডখ্যাত কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন। বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় তিনি। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এই শিল্পী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাশী ছিলেন এই তারকা। সে সময় দল থেকে মনোনয়নপত্র পাননি তিনি। বিএনপির হয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র কিনেও অবশেষে মনোনয়ন পাননি বেবী নাজনীন।

খ্যাতিমান কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সিরাজগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে প্রার্থী হন তিনি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ নাসিম। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে  সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর) আসনের জন্য মনোনয়নপত্র প্রত্যাশী ছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই শিল্পী। নিয়মিত নির্বাচনি এলাকায় কাজও করেছেন তিনি। সে সময়ও দল থেকে এই শিল্পীকে মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়নি। এরপর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির হয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়পত্র জমা দিয়েও মনোনয়ন পেলেন না কনকচাঁপা।

মনোনয়ন না পেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনকচাঁপা একটি স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘প্রিয় বিশ্ববাসী, আসসালামু আলাইকুম। জীবনের যেকোনো পরিস্থিতিতেই আমি আলহামদুলিল্লাহ বলি। সবই আল্লাহর ফায়সালা। সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য যুদ্ধ করলাম। তখনো যখন নমিনেশন পাইনি আলহামদুলিল্লাহ বলেছি নির্দ্বিধায়। গ্রামের মানুষের প্রবল চাহিদার জন্য আবারও গেলাম সংরক্ষিত আসনের এই প্রসেসে। সেখানেও নাম নাই। আবারও বলি আলহামদুলিল্লাহ। নিশ্চয়ই আল্লাহ এর মধ্যে মঙ্গল রেখেছেন। জীবন তো এখানেই শেষ হয়ে গেল না। আপনারা যেভাবে আমার সঙ্গে ছিলেন আশাকরি সেভাবেই থাকবেন। আমি নিতান্তই সাদামাটা মানুষ। দল হয়তো ভেবেছে আমি ভাতের মাড় টাইপ মানুষ। কিন্তু আমি জানি এই দেশ আমার, গান ছাড়াও এ দেশকে দেওয়ার অনেক কিছু বাকি আছে। ইনশাআল্লাহ আমি আছি দেশের হয়ে, দশের হয়ে। আর কিছু যদি নাও পারি মরে গিয়ে মাটিতে মিশে মাটি উর্বর করতে পারব নিশ্চয়ই। আমার জন্য দোয়া করবেন। কনকচাঁপা কণ্ঠশ্রমিক।’

পাগল মন খ্যাত নন্দিত কণ্ঠশিল্পী দিলরুবা খান জয়পুরহাট-২ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। নির্বাচিত হলে বড় পরিসরে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলেন এই গায়িকা। তিনিও মনোনয়ন পাননি সংরক্ষিত আসনে।

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন কণ্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভীন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য তুলে ধরেন তিনি। নিজ জেলা কিশোরগঞ্জ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য আবেদন করেও মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন তিনি।

নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী বেবী। তিনি বিএনপির বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ময়মনসিংহ-১১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আমান উল্লাহ চৌধুরীর কন্যা। পরিবারের রাজনৈতিক আদর্শ ও জনসম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতায় জনগণের সেবা করার প্রত্যয় থেকেই নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সক্রিয় থাকা ফারহানা চৌধুরী বেবীও পাননি মনোনয়ন।

বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)–এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তার মা মরহুমা রাহিজা খানম ঝুনুও (একুশে পদকপ্রাপ্ত) জাসাসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন গীতিকার, পরিচালক, প্রযোজক গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মেয়ে সংগীতশিল্পী দিঠি আনোয়ার। তার শ্বশুর শফি আহমেদ চৌধুরী বিএনপির হয়ে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও মনোনয় পাননি দিঠি আনোয়ার।

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাননি জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। মনোনয়ন না পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা তিনটার দিকে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘কুষ্টিয়া থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত হওয়ার জন্য ফরিদা ইয়াসমিন আপাকে জানাই অনেক অনেক অভিনন্দন! আমি রাজনীতিতে একেবারেই নতুন এবং সংরক্ষিত নারী আসনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমার রাজনীতির পথচলা শুরু। দল থেকে যে অসামান্য সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়েছি, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ।  তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘আমার মূল লক্ষ্য দেশ ও দশের সেবা করা। আমি কুষ্টিয়ার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই এবং আমাদের হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে চাই। আমার রাজনীতির এই নতুন পথচলায় আপনাদের সকলের দোয়া ও ভালোবাসা প্রত্যাশা করছি।’

এর কিছু সময় পর ‘নতুন যুগের সূচনা, নতুন যাত্রা’ ক্যাপশন লিখে ফেসবুক লাইভে আসেন এই অভিনেত্রী।

বিএনপির আলোচিত প্রার্থী মডেল মেঘনা আলম ও ফারজানা সিঁথি মনোয়ন পাননি। 

উল্লেখ্য, এবার সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে মোট ১ হাজার ২৫টি। জমা দিয়েছেন প্রায় ৯০০ জন। প্রতিটি ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ হাজার টাকা এবং মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীদের ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়।

Link copied!