রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান ‘আহা তোমার সঙ্গে প্রাণের খেলা’ নতুন করে উপস্থাপন করেছেন তিনি। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন সংগীতশিল্পী বিপাশা সেন রায়।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, হিংসা ও অস্থিরতায় ভরা বর্তমান সময়ে প্রেমের বার্তা পৌঁছে দিতে রবীন্দ্রসংগীতকেই বেছে নিয়েছেন শ্রীলেখা মিত্র। ধীর লয়ের গানটিকে তিনি তাঁর নিজস্ব আঙ্গিকেই তুলে ধরেছেন। ভিডিওতে অভিনয় করেছেন সোমু সরকার, সুদীপ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীলেখা মিত্র নিজে। এসরাজে রয়েছেন তথাগত মিশ্র, ব্যবস্থাপনায় ছিলেন অয়ন মুখার্জি।
এই প্রযোজনার একটি বিশেষ দিক হলো, বিপাশা সেন রায় প্রথমবারের মতো কোনো রবীন্দ্রসংগীতের মিউজিক ভিডিওতে কণ্ঠ দিয়েছেন। এতে প্রজেক্টটি পেয়েছে নতুন মাত্রা। গানটি বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শ্রীলেখা বলেন, ‘বর্তমান সময়ে প্রেমের ভাষা যেন হারিয়ে যাচ্ছে। সেই শূন্যতা পূরণ করতেই এই প্রয়াস।’ তাঁর ভাষায়, ‘হিংসায় উন্মত্ত পৃথিবীতে প্রেমের বার্তা কেউ দেয় না—সেই দায়িত্ব না হয় আমিই নিলাম।’
অনেকের মতে ,বর্তমান প্রজন্ম ফিউশনধর্মী রবীন্দ্রসংগীতে অভ্যস্ত। তবে সেখানে শ্রীলেখা ভিন্নপথে হেঁটেছেন। তিনি গানটিকে তাঁর স্বাভাবিক ও শুদ্ধ আঙ্গিকেই উপস্থাপন করেছেন। ভিডিওর দৃশ্যায়ণেও রাখা হয়েছে পুরোনো দিনের ছোঁয়া—পুরোনো বাড়ি, চিক-ঢাকা বারান্দা ও লাল মেঝের আবহে ফুটে উঠেছে নস্টালজিয়া ও চিরন্তন প্রেম।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এই মিউজিক ভিডিও নারীদের প্রতি উৎসর্গ করেছেন শ্রীলেখা। তাঁর মতে, প্রেম ও অনুভূতির এই প্রকাশ নারীর হৃদয়ের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
ছবি পরিচালনা ও মিউজিক ভিডিও নির্মাণের পার্থক্য নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। শ্রীলেখা বলেন, ‘দুটি কাজ আলাদা হলেও আমার আত্মবিশ্বাস আছে।’ পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয়ে তুলনামূলক কম সময় দিয়েছেন বলেও জানান, যাতে কাজের ভারসাম্য বজায় থাকে।
আমার ‘সুগার ড্যাডি’ নেই, ভালোবাসার মানুষজনেরও অভাব: শ্রীলেখা
অন্যদিকে বিপাশা সেন রায় জানান, মঞ্চে তিনি মূলত হিন্দি সিনেমার গান পরিবেশন করে থাকেন। এটি তাঁর জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই একটি রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবাম করার ইচ্ছা ছিল। শ্রীলেখা মিত্রের সঙ্গে সেটি বাস্তবায়ন হবে, এটা ভাবিনি। এটি আমার জন্য বিশেষ প্রাপ্তি।’
বিপাশা সেন রায় আরও বলেন, ‘গানটি ধীর লয়ের, আবেগ দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে গাওয়া হয়েছে। এই অস্থির সময়ে প্রেমই পারে মানুষকে সংঘাত থেকে শান্তির পথে ফেরাতে—এই বিশ্বাস থেকেই গানটি করা।’
এই প্রজেক্টে পরিচালনার পাশাপাশি প্রোডাকশন ডিজাইন ও পোশাক নির্বাচনে সরাসরি যুক্ত ছিলেন শ্রীলেখা। সহ-অভিনেতাদের পোশাকের রং নির্বাচন থেকে শুরু করে শিল্পীর লুক—সবকিছুতেই রয়েছে তাঁর নিজস্ব ভাবনার ছাপ।
সব মিলিয়ে, মিউজিক ভিডিওটি কেবল একটি গান নয়; বরং প্রেম, নান্দনিকতা ও শুদ্ধ রবীন্দ্রচর্চার এক নতুন উপস্থাপনা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।





































