টাইম ম্যাগাজিনের আইকন অব দ্য ইয়ার মনোনীত হয়ে দারুণ একটা সফল বছর কাটালেন মিশেল ইয়ো। বুধবার (৭ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে দ্য স্ট্রেইটস টাইম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে মালয়েশিয়ার এই অভিনেত্রী একাই জড়িত ছিলেন দ্য স্কুল অফ গুড অ্যান্ড ইভিল, মিনিয়নস: দ্য রাইজ অফ গ্রু, পজ অফ ফিউরি: দ্য লিজেন্ড অফ হ্যাঙ্ক এবং আসন্ন অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার-সহ বেশ কয়েকটি প্রকল্পে।
এটা ছিলো- এভরিথিং এভরিহোয়ার অল অ্যাট ওয়ানস- নামে গত মার্চে মুক্তি পাওয়া সিনেমা- যা তার প্রতি সব রকম সমালোচনার মোক্ষম জবাব দিয়েছে এবং তাকে তুলে দিয়েছে আলোচনার শীর্ষে।
১৯৯৭ সালে হংকং থেকে হলিউডে পা রাখার পর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বহু সংখ্যক মার্কিন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তবে চলতি বছর এভরিথিং এভরিহোয়ার অল অ্যাট ওয়ানস-সিনেমাটি করার আগ পর্যন্ত তিনি কখনোই সেরা তালিকার এক নাম্বারে জায়গা পাননি।
এর কারণ জানিয়ে টাইম ম্যাগাজিনকে ৬০ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, “এর কারণ হলো এশিয়ান অভিনেতারা সর্বদা স্টিরিওটাইপিক্যাল বা অসংগত ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।”
মালয়েশিয়ার ইপোহ-তে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী বলেন, “বিষয়টা আমার জাতি সম্পর্কে হওয়া উচিত নয়, তবে এটা একটা যুদ্ধ ক্ষেত্র। এখানে আমাকে চেষ্টা করে যেতে হবে।”
আর তাই, যখন এই সিনেমাতে একজন অতিরিক্ত পরিশ্রমী এবং হতাশ স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয়ের প্রস্তাব তার কাছে এসেছিল, ইয়ো তা লুফে নেন এবং এতে নিজের সব অভিনয় গুণ উজাড় করে দেন।
লাস্যময়ী এই অভিনেত্রী বলেছেন, “আপনি যখন এইরকম একটা সুযোগ পাবেন, তখন আপনাকে আপনার হৃদয় এবং আত্মাকে এতে ঢেলে দিতে হবে। কারণ আপনি জানেন না যে, পরবর্তী সুযোগ কখন আসবে। আমি মনে করি, এটাই আমার সবচেয়ে বড় ভয়; দয়া করে একে একমাত্র হতে দেবেন না। "
এদিকে, সিনেমাটিতে ইয়োর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, তার অস্কার পাওয়া নিয়েও গুঞ্জন তৈরি করছে।
টাইম লিখেছে, “ইয়ো এই বছরের একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের দৌড়ে অনেক বেশি এগিয়ে আছেন। তার জয়ে এশিয়ানরা নিজেদেরই বিজয় হিসেবে গ্রহণ করবে। কেননা, কোনো এশিয়ান নারীই এখনও পর্যন্ত সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারটি পাননি।”
ইয়োও জানেন যে, অস্কারে মনোনয়ন এবং জয়ের অর্থ আসলে কী! এটা শুধু তার জন্যই নয়, বরং তার ভক্তদের জন্যও আনন্দদায়ক। তিনি বলেন, “আমিও এটা নিয়ে চিন্তা করেছি এবং শুধু আমি না- আমি মনে করি, আমার পুরো এশিয়ান সম্প্রদায় এটা নিয়ে চিন্তা করেছে। তারা আমার কাছে আসে এবং বলে যে, `আপনি আমাদের জন্যই এই গৌরব বহন করছেন।”


































