• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১, ১৩ মুহররম ১৪৪৫

মস্কো জয়ের গল্প বললেন ‘আদিম’ সিনেমার নির্মাতা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২২, ০৬:৪৮ পিএম
মস্কো জয়ের গল্প বললেন ‘আদিম’ সিনেমার নির্মাতা

ঢাকা-গাজীপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা টঙ্গী। সেখানকার আলো-বাতাসে বেড়ে উঠেছেন যুবরাজ শামীম। প্রায় সব অলিগলি তার চেনা। শুধু একটি এলাকায় যাওয়া হয়নি। ব্যাংক মাঠ বস্তি। সেখানে সমাজের অবহেলিত, কথিত নিম্ন শ্রেণির মানুষের বসবাস। অথচ এই বস্তিতে সিনেমা বানিয়েই তিনি জয় করলেন মস্কো!

দিন কয়েক আগে রাশিয়ার মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৪৪তম আসরে সিলভার জর্জ অ্যাওয়ার্ড (স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড) এবং নেটপ্যাক জুরি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে যুবরাজ শামীম নির্মিত সিনেমা ‘আদিম’। মস্কো জয় করতে যুবরাজ শামীমের খরচ হয়েছে মাত্র ১৫ লাখ টাকা! যে টাকার জোগান দিয়েছেন ৫১ জন সিনেমাপ্রাণ মানুষ।

মস্কো জয় করে দেশে ফেরার পর নিজের অনুভূতি ও ‘আদিম’ জার্নির গল্প শুনিয়েছেন যুবরাজ। বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সেমিনার হলে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। এখানে উপস্থিত ছিলেন, ‘আদিম’ সিনেমার অভিনেত্রী সোহাগী, অভিনেতা দুলাল মিয়া ও চিত্রগ্রাহক আমির হামযা।
‘আদিম’ যুবরাজের প্রথম সিনেমা। মজার ব্যাপার হলো, এই সিনেমার চিত্রগ্রাহক এবং অভিনয়শিল্পীরাও একেবারে আনাড়ি। ফলে ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’ হয়ে শামীমকেই সবকিছু এগিয়ে নিতে হয়েছিল।

সিনেমার গল্প প্রসঙ্গে যুবরাজ বলেন, “ল্যাংড়ার ভাসমান জীবন, যেখানেই যায় সেখানেই নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। সম্পর্কগুলোর নির্দিষ্ট কোন নাম থাকে না, একেকটি সম্পর্ক একেকরকম। বস্তির ছিঁচকে মাদকব্যাবসায়ী কালার স্ত্রী সোহাগীর সাথেও ল্যাংড়া এমনই এক নামহীন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। কালা বিষয়টি জানতে পারলে সেই সম্পর্ক নিয়ে তৈরী হয় জটিলতা। এই জটিলতা ল্যাংড়া আঁচ করতে পারলেও, সে মনের অজান্তেই আরো এমন বহু জটিলতা তৈরী করে, যা তার জীবনে রূপকথার গল্প হয়ে ধরা দেয় এই ধারাবাহিক গল্পটিতে।”

যুবরাজ শামীম আরও জানান,  আদিম চলচ্চিত্রটিতে কোনো পেশাদার অভিনেতা-অভিনেত্রী নেই। সবাই যে যার নিজের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নির্মাতা চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করতে টঙ্গীর ব্যাংক মাঠ বস্তিতে টানা সাত মাস স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। সেখানে থেকেই তিনি স্থায়ী বাসিন্দাদের রিহার্সাল করিয়ে চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করান। এ সময় তিনি নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন। কখনও পুলিশ তাকে মাদকসেবী হিসেবে গ্রেপ্তার করে। কখনও স্থানীয় মাদক কারবারিরা তাকে সাংবাদিক মনে করে বিভিন্ন রকম জটিলতার মুখে ফেলে। কিছু মানুষ অসহযোগিতা করলেও বেশিরভাগ মানুষের আন্তরিক সহযোগিতায় শেষমেশ এ বছর নির্মাতা চলচ্চিত্রটির কাজ শেষ করা হয়।


যে সিনেমা মস্কো জয় করে এলো, সেটির আসলে বাজেট কতো? যুবরাজের তথ্য, “এটি গণমানুষের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে। মোট ৫১ জন মানুষ আমাদের সিনেমার শেয়ার ক্রয় করেছেন। নির্মাতার সম্মানি ছাড়া সিনেমাটি বানাতে এবং মস্কো উৎসবে জমা দেওয়া পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।”

বিদেশের মানুষ তো দেখেছেন, দেশের মানুষ ‘আদিম’ কবে দেখবেন? এ বিষয়ে নির্মাতা বলেন, “এখনও এ বিষয়ে কোনও পরিকল্পনা করিনি। প্রযোজক-পরিবেশক সমিতিতে যোগাযোগ করবো। আসলে মুক্তি দেওয়ার জন্য যে খরচ, সেটা বহন করা আমার পক্ষে কঠিন। দেখি তারা আমাকে কোনও ছাড় কিংবা সুযোগ করে দেন কিনা। আশা আছে, যত দ্রুত সম্ভব মানুষকে সিনেমাটি দেখাবো।”

 

Link copied!