নির্জনা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, নেপথ্যে যে কারণ


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
নির্জনা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, নেপথ্যে যে কারণ

খুলনায় মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে আরফানা হোসেন নির্জনা নামে এক কিশোরীকে হত্যা করেছেন তার বাবা ও মা। এ ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেএমপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।

এ ঘটনায় নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে। 

পুলিশ জানায়, গত ৮ জুলাই রাত ৯টার দিকে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে লাশটি উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই, সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে  নিহতের ছবি প্রকাশ, বেতার বার্তা প্রচার এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় ১০ জুলাই খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়। তিনি সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরফানা হোসেন নির্জনা। পরে তার বাসায় গিয়ে মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

পুলিশের জানিয়েছে, মেয়ের বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে চলছিল। ওই বিরোধের জেরে তর্কের একপর্যায়ে বাবা মেয়ের মাথায় লাঠি দিয়ে তিন চারটি আঘাত করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মেয়েটির মৃত্যু হয়। এরপর লাশ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রেখে ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়।

ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে স্বেচ্ছায় আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা-মা অভিযুক্ত হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

Link copied!