কাজল আগরওয়াল

অভিনেত্রীদের এখন নিখুঁত দেখানোর চাপ অনেক বেশি


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
অভিনেত্রীদের এখন নিখুঁত দেখানোর চাপ অনেক বেশি

ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় দুই দশক কাটিয়ে ফেলেছেন কাজল আগরওয়াল। দক্ষিণের পাশাপাশি বলিউডি সিনেমার দুনিয়ায়ও নিজের জমি পাকাপোক্ত করে ফেলেছেন অভিনেত্রী।

সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু কথা ভাগ করে নিয়েছেন কাজল। জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে অভিনেত্রীদের এখন নিখুঁত দেখানোর চাপ অনেক বেশি।
বর্তমানে ‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’র মুক্তির অপেক্ষায় আছেন কাজল। চেতন ডিকে পরিচালিত ছবিটিতে কীটনাশকনির্ভর কৃষি আর খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল মিশ্রণের ফলে সমাজে এর বাজে প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয়েছে। ছবিতে কাজলকে আইনজীবীর পোশাক গায়ে সত্য উদ্‌ঘাটনের লড়াইয়ে নামতে দেখা যাবে।


বাস্তব ঘটনার আধারে নির্মিত এ ছবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই ছবির কাহিনিকে ঘিরে গবেষণার তথ্যগুলো জানার পর বুঝতে পারি, আমরা অনেক সময় নিজেদের ছোট্ট জগতেই সীমাবদ্ধ রাখি। তখন মনে হয়েছিল, এই বিষয়টি সবার সামনে তুলে ধরা দরকার। কারণ, সচেতনতা তৈরি হলেই মানুষ এ নিয়ে ভাববে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এটি আমার জন্য চোখ খুলে দেওয়ার মতো অভিজ্ঞতা। বাস্তবতাটা খুবই অস্বস্তিকর।’

কাজল আরও বলেন, ‘এই সিনেমার গল্প আমাকে ব্যক্তিগতভাবেও অনেক বদলে দিয়েছে। অনেক রাত ঘুমাতে পারিনি। বাড়ি ফিরে স্বামীর সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করতাম। পরিবারের জন্য নিরাপদ খাবার কেনার বিষয়ে আরও সতর্ক হয়েছি। এমনকি বন্ধুদেরও বলেছি, শুধু দেখতে ভালো বলে কোনো দোকানকে বিশ্বাস না করে পণ্যের অনুমোদনের সিল বা মান যাচাই করে নিতে।’

গ্ল্যামার নিয়ে কাজল জানান, তিনি যখন অভিনয় শুরু করেছিলেন, তখন চলচ্চিত্রজগতের পরিবেশ ছিল একেবারেই ভিন্ন, ‘সেই সময় সামাজিক মাধ্যম ছিল না। বাইরের মানুষের অতিরিক্ত বিচারও ছিল না। বিমানবন্দরে কী পোশাক পরে যাচ্ছেন, তা নিয়ে জবাবদিহি করতে হতো না। নিজের মতো করেই কোথাও যাওয়া যেত, বিমানবন্দরেও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করা যেত। সম্পূর্ণ সাজগোজ করে ভ্রমণ করা সহজ নয়। বিশেষ করে দীর্ঘ বিমানযাত্রার সময় আরামদায়ক থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ। সৌভাগ্যবশত তখন এসব বিষয় আমাকে সামলাতে হয়নি।’

তবে নারী অভিনেত্রীদের ওপর নির্দিষ্ট সৌন্দর্যের মানদণ্ড মেনে চলার চাপ তখনো ছিল। তিনি বলেন, ‘সমালোচনা তখন অবশ্যই ছিল। তবে সেটা মূলত নির্মাতাদের কাছ থেকেই আসত। কেউ চাইতেন আমি একটু মোটা হই, কেউ চাইতেন আরও রোগা হই, এ ধরনের নানা মন্তব্য শুনতে হয়েছে। কিন্তু তখনো পরিস্থিতি তুলনামূলক সহজ ছিল। এতটা নিষ্ঠুর ছিল না। এখন পরিস্থিতি সত্যিই নির্মম। তাই বর্তমান প্রজন্মের মেয়েদের জন্য আমার খারাপ লাগে। আমি শুধু আশা করি, তারা নিজেদের অবস্থানে দৃঢ় থাকতে পারবে এবং নিজেদের জন্য জায়গা ধরে রাখতে পারবে।’

কাজল আরও জানান, তিনি সব সময় এমন পরিস্থিতি থেকে সরে আসার আত্মবিশ্বাস রাখতেন। শুধু সুযোগ পাওয়ার জন্য কোনো কিছুকে ‘হ্যাঁ’ বলতে তিনি কখনো বাধ্য বোধ করেননি। তাঁর মতে, সবকিছুতে সম্মতি দেওয়ার চেয়ে প্রয়োজনে ‘না’ বলতে শেখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শুরু থেকেই কাজলের বিশ্বাস ছিল, কোনো কাজ হলে ভালো, না হলেও সেটি মেনে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মানসিক প্রস্তুতি তাঁর ছিল।

কাজলকে আগামী দিনে নিতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ ছবিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত শুধু প্রথম পর্বের শুটিং করেছি। আর অবশ্যই এতে লঙ্কার অংশ তুলনামূলকভাবে ছোট। আমি মন্দোদরীর চরিত্রে অভিনয় করছি। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমার চরিত্রটিও খুব সীমিত।’ পর্দায় উপস্থিতি সীমিত হলেও এত বড় একটি চলচ্চিত্র প্রকল্পের অংশ হতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত কাজল, ‘সত্যি বলতে অভিজ্ঞতাটা অসাধারণ। আর আমাদের হৃদয়ের এত কাছের একটি গল্পের অংশ হতে পেরে আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।’

‘দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’ ২৪ জুলাই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা।

Link copied!