বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপরে তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কা


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপরে তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কা

ভারতের গজলডোবা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা ভারী বর্ষণের কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার তিন সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে আকস্মিক পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার নদীতীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি শত শত পরিবার পানিবন্দি হওয়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৯টায় তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৮ মিটার। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার হওয়ায় পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভারতে কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ বেড়েছে। উজানের এই ঢলের প্রভাবে বাংলাদেশ অংশের ডালিয়া পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


এর আগে কয়েক দিন ধরে তিস্তার পানি ওঠানামা করলেও তা বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে মঙ্গলবার রাতের ভারী বৃষ্টি এবং উজানের ঢলের কারণে বুধবার থেকে পানির প্রবাহ বেড়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করে। ফলে তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং শত শত পরিবার পানিবন্দি হতে পারে।
ইতিমধ্যে বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।

জেলার পাঁচ উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকাও বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানির চাপ আরো বাড়লে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং নদীতীরবর্তী উঁচু সড়কগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এসব বাঁধ চলতি বন্যায় বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে দাবি তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে কাজ করলে ফাঁকি দিতে পারবেন না। আর বর্ষায় কাজ করলে কাজ না করেও বলতে পারবে কাজ করেছি।


এসব কারণে নদীর স্থায়ী কোনো কাজ হয় না। বর্ষা এলে সিসি ব্লক আর বালুর বস্তা নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন দৌড়ায়।’
নদীপাড়ের গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে পানি বাড়া-কমা করছিল। আজকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পানি বাড়ার পরিমাণটা বেশি। চরাঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি উঠে পড়তে পারে। তারা পানিবন্দি হয়ে পড়লে ওই সব এলাকার শিশু, বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম কষ্টে থাকতে হয়। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়েও আমাদের কষ্টের শেষ নেই। এসবের মাঝেও থাকে সাপ-পোকার প্রাদুর্ভাব। সব মিলিয়ে আমাদের নিদ্রাহীন রাত কাটে বন্যার সময়। বন্যা যতদিন থাকে, আমাদের কষ্ট তার চেয়েও অনেক বেশি সময় ধরে চলে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ভারী বৃষ্টি ও উজানের পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা বেড়েছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ না করে ফেলে রাখে। বর্ষা এলে জরুরি মেরামতের নামে কাজ শুরু করা হয়। অথচ শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ মেরামত করা হলে কাজ আরো টেকসই হতো এবং নদীভাঙন ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতিও অনেকাংশে কমানো সম্ভব হতো।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানের পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় এ পয়েন্টে পানি প্রবাহ বেড়েছে। তাই হালকা বন্যা দেখা দিতে পারে। উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘ হতে পারে। উজানের ঢলের ওপরই নির্ভর করে পানির চাপ কম-বেশি হতে পারে।’

Link copied!