• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪৫

পাঁচ মিনিটের ঝড়ে শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত


নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২৩, ০৮:১০ পিএম
পাঁচ মিনিটের ঝড়ে শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত

নীলফামারী সদর ও জলঢাকা উপজেলায় হঠাৎ ৫ মিনিটের ঝড়ের আঘাতে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ে বাড়িঘর হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। 

সোমবার (১৫ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার টুপামারী, লক্ষ্মীচাপ ও জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে ঝড়ের আঘাত হানে।

মাত্র ৫ মিনিটের ঝড়ে শতাধিক কাঁচাপাকা বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি ও সবজি বাগান লণ্ডভণ্ড হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ঝড় আর শিলা বৃষ্টিতে ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্রসহ নষ্ট হয়েছে।

লক্ষ্মীচাপের আকাশকুড়ি মাস্টার পাড়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত হারিদাশ রায় বলেন, “আমার ৪টা টিনের ঘরের মধ্যে ৩টি একবারে পুরো ভেঙে গেছে এবং একটি হেলে গেছে। হটাৎ করে রাতে ঝড়া আসে। ঝড় আসার আগে প্রচণ্ড বাতাস বইছিল। জানি না কীভাবে কী করব।”

একই এলাকার শাহীন আলম বলেন, “আমাদের পাড়ার প্রায় ২০-২৫টা ঘর ভেঙে গেছে। আমাদের গরুর ঘরটা ভেঙে গেছে। দিনের বেলা প্রচণ্ড রোদ ছিল। রাতে হঠাৎ করে বাতাস শুরু হলে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়।”

এ বিষয়ে লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, “আমার ইউনিয়নের আকাশকুড়ি এলাকাসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় শতাধিক বাড়িঘর ভেঙে পড়েছে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরুপণের চেষ্টা করছি এবং তালিকা করছি।”

নীলফামারী সদরের ইউএনও জেসমিন নাহার বলেন, “ঠিক কতগুলো বাড়িঘর কিংবা ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনো জানতে পারিনি। তালিকা পেলে সহযোগীতা করা হব।”

এ দিকে মঙ্গলবার (১৬ মে) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ বেরুবন গ্রামে গাছে ঝুলে থাকা ভাঙা ডাল মাথায় পড়ে রেনুফা বেগম (২৭) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। রেনুফা বেগম ওই এলাকার মো. আনোয়ারুল ইসলামের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঝড়ে বাড়ির পেছনে একটি গাছের ডাল ভেঙে কিছুটা আটকে থাকে। মঙ্গলবার সকালে সেটা বউ-শাশুড়ি মিলে নামাতে গিয়ে বউ এর মাথার উপরে পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হামিদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনাটি শোনামাত্র আমি সেখানে গিয়েছিলাম।”

Link copied!