• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪৫

রাজশাহীতে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ


রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৩, ০৯:৫০ পিএম
রাজশাহীতে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ

রাজশাহীর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তাপপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই তাপমাত্রা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে এমন আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) রাজশাহীতে এ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

টানা তাপপ্রবাহে তাই রাজশাহী জনজীবন দুর্বিষহ উঠেছে। ছেদ ঘটেছে স্বাভাবিক কাজকর্মেও। অফিস-আদালত বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান; কোথাও স্বস্তি নেই। বিশেষ করে পথেঘাটে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। রুটি-রুজির তাগিদে আগুনমুখো আবহাওয়া উপেক্ষা করেই তাদের হাড় ভাঙা পরিশ্রম করে যেতে হচ্ছে। মানুষের পাশাপাশি পশু-পাখিরাও নিদারুণ কষ্টে একেকটি উত্তপ্ত দিন পার করছে।

সাধারণত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকেই তাপপ্রবাহ শুরু হয়। ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বলা হয় মৃদু তাপপ্রবাহ। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বলা হয় মাঝারি তাপপ্রবাহ। আর ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বলা হয় তীব্র তাপপ্রবাহ।

রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, “গত ৪ এপ্রিল থেকে মূলত রাজশাহীতে তাপপ্রবাহ শুরু হয়। এদিন রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ৯ এপ্রিল রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১০ এপ্রিল রেকর্ড করা হয় ৩৮ ডিগ্রি ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ১১ এপ্রিল রেকর্ড করা হয় ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১২ এপ্রিল বিকাল ৩টায় রাজশাহী সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ ৬ দশমিক ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এটি এখন পর্যন্ত চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

আব্দুস সালাম আরও বলেন, “রাজশাহীতে তাপপ্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে দুপুর গড়াতেই কমে যাচ্ছে বাতাসের আর্দ্রতা। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় রাজশাহীতে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১৩ শতাংশ। বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ার কারণে মানুষের শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ছে। রোজা থাকার কারণে কেউ পানি পান করে সেই ঘাটতিও পূরণ করতে পারছেন না। এতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীরা বেশি কষ্ট ভোগ করছেন। এই কাঠফাটা গরমেও মানুষের ঠোঁট ফাটছে, হাত পাও ফেটে যাচ্ছে। এই অবস্থায় শিশু ও বৃদ্ধদের ছায়ায় থাকতে পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এছাড়া ইফতারের সময় ডায়াবেটিস রোগীদের পরিমত পরিমাণে খেজুর খাওয়ারও পরামর্শ দিচ্ছেন।”

রাজশাহীর বিশিষ্ট ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, “এমন তাপপ্রবাহে সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত রোগীদের বেশি সমস্যায় ভুগতে হয়। তাই শারীরিক সমস্যা থাকলে তাদের রোজা না থাকাই ভালো। আর যারা রোজা রাখতে পারছেন, তাদের ইফতারের পর থেকে সাহরি পর্যন্ত বেশি পরিমাণে পানি ও পানীয় জাতীয় ফলমূল খেতে হবে। এছাড়া তেল ও চর্বি জাতীয় সব খাবার সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলতে হবে।”

Link copied!