বাবার ইচ্ছাপূরণে হেলিকপ্টারে বধূবরণ


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২৩, ১০:৪৮ এএম
বাবার ইচ্ছাপূরণে হেলিকপ্টারে বধূবরণ

কুড়িগ্রাম থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে নববধূকে নিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে গেলেন নেত্রকোনার অপু বাসফোর। পেশায় একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হয়েও মৃত বাবার দিলীপ বাসফোরের স্বপ্ন পূরণ করতে এ আয়োজন করেছেন তিনি। কনে শানিতা রানী কুড়িগ্রাম পৌর শহরের বস্তি পাড়া গ্রামে হরিজন ভুট্টু বসফোরের মেয়ে।

বুধবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে হেলিকপ্টারটি অবতরণ করে। এ সময় হেলিকপ্টারটি দেখতে হাজারো মানুষের ভিড় জমে।

নববধূর পরিবার সূত্রে জানা যায়, বর অপু বাসফোরের বাড়ি নেত্রকোনা সদরে আর শানিতা রানীর বাড়ি কুড়িগ্রাম পৌর শহরের বস্তি পাড়ায়। অপু বাসফোরের নিকটতম আত্মীয় কুড়িগ্রামে বসবাস করায় পারিবারিকভাবে আলাপ আলোচনা মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়।

শানিতা রানীর বাবা ভুট্টু বাসফোর বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। বরপক্ষ আমাদের মেয়েকে পছন্দ করেছে। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে দেওয়া হলো। মেয়েকে হেলিকপ্টারে করে বউ বানিয়ে নিয়ে যাবে, এ কথা কখনোই বিশ্বাস করতাম না। আজ হেলিকপ্টার এসে মেয়েকে যখন নিয়ে গেল বুকটা শান্তিতে ভরে গেল।”

বর অপু বাসফোর বলেন, “আমার বাবা গত দুবছর আগে মারা যান। তার ইচ্ছা ছিল বড়সড় আয়োজন করে আমার বিয়ে দেবে। তিনি বারবার বলেছিলেন, আমার বউ মাকে যেন হেলিকপ্টারে করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তাই বাবার আত্মার শান্তি ও স্বপ্ন পূরণে ঘণ্টাপ্রতি ৮০ হাজার টাকা খরচ করে হেলিকপ্টারে করে বউকে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি।”

হেলিকপ্টার দেখতে আসা মো. রহিম নামের একজন বলেন, “আমি কখনো হেলিকপ্টারে বর যাত্রী যেতে দেখিনি। আজ স্টেডিয়ামে এত মানুষের ভিড়ে হেলিকপ্টার দেখলাম। দোয়া করি বর বউ যেন ভালো থাকে।”

নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদর থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদ আলী বলেন, “আমরা শৃঙ্খলা রক্ষা নিরাপত্তার দায়িত্বে আছি। খুব সুন্দরভাবে হেলিকপ্টার অবতরণ করে বর যাত্রীরা আবার চলে গেল।”

Link copied!