ভিজিডির তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অবরুদ্ধ


দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৩, ০৮:৩৬ পিএম
ভিজিডির তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অবরুদ্ধ

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় যাচাই-বাছাই ছাড়াই ছয়টি ইউনিয়নের ভিজিডি কর্মসূচির ২ হাজার ৬৫৯ জনের তালিকা তৈরি করেছেন উপজেলাটির মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা। অনিয়মের অভিযোগে ওই কর্মকর্তাকে চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন ছয়টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বার।

মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় জেলার খানসামা উপজেলায় ঘটনাটি ঘটে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিরঞ্জন কুমারকে তারা চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করেন রাখেন। পরে সন্ধ্যা ৬টায় তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এসময় চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা তালিকা সংশোধনের দাবি জানান। পাশাপাশি বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় না বসার কথাও জানিয়েছেন তারা।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলাটির ছয়টি ইউনিয়নে ওয়ার্ড রয়েছে ৫৪টি। ওয়ার্ডগুলোতে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দুস্থ ভিজিডি কার্যক্রমের আওতায় সুবিধা পাবেন ২ হাজার ৬৫৯ জন দুস্থ নারী।

জানা যায়, চেয়ারম্যান ও মেম্বার, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন ভিডব্লিউবি (ভিজিডি) কমিটির মাধ্যমে দুস্থ নারী যাচাই-বাছাই করে উপজেলা কমিটিতে পাঠাবেন। সেটি উপজেলা কমিটি পুনরায় যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেবেন। কিন্তু অটোমেশনের কথা বলে একটি তালিকার অনুমোদন দেয় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়। এই তালিকার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবাদ জানান ছয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে ভিডব্লিউবি কার্যক্রমের আওতায় ভিজিডি কর্মসূচির তালিকা পরিবর্তনের দাবি জানাতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে সমবেত হোন। এরই একপর্যায়ে তারা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

কথা হলে উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান ফোরাম কমিটির সভাপতি ও আংগারপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তফা শাহ বলেন, “যাচাই-বাছাই করে সঠিক দুস্থ ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করার জন্য উপজেলা থেকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু সেটি বাদ দিয়ে পছন্দমতো তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণভাবে স্বেচ্ছাচারিতা ও নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রম। তাই এই তালিকা পরিবর্তন করার দাবি জানাচ্ছি আমরা।”

তবে এ বিষয়ে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিরঞ্জন কুমার কথা বলতে রাজি হননি।

অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশিদা আক্তার বলেন, “এখন সব তালিকা হয় অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে।  প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ আবেদন করেন। পরে সেই তালিকাগুলো যাচাই-বাছাই শেষে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করতে হয়, যাতে প্রকৃত ব্যক্তিরাই এই সুবিধা ভোগ করতে পারেন। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সংশোধন করে আমাদের তালিকা না দেওয়ায় অটোমেশন পদ্ধতিতে তালিকা প্রস্তুত হয়ে গেছে। এখন চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা চাচ্ছেন- তাদের দেওয়া তালিকা অনুমোদন করতে। বেশ কিছু নিয়মের ভেতর দিয়ে এটি করার সুযোগ রয়েছে। চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের তালিকা অনুমোদনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।”

স্বদেশ বিভাগের আরো খবর

Link copied!