পাবনায় শীত জনিত কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে ৯০ থেকে ১০০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। হাসপাতালের ১৫ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বর্তমানে শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছেন। শয্যা না পেয়ে ঠান্ডার মধ্যে হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে অবস্থান করছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। অধিক রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও সেবিকাদের। জরুরি বিভাগেও প্রতিদিন গড়ে অর্ধশতাধিক রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন।
পাবনা সদরের দুবলিয়া গ্রামের ছোয়াত নামে এক শিশুর মা বলেন, “বাচ্চার বয়স ১৯ মাস। কয়েক দিন আগে ঠান্ডা লেগেছিল। তারপর ভালো হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু গেল মঙ্গলবার থেকে বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। তাই ভর্তি করেছি। রোগীর চাপ বেশি থাকলেও নার্সরা খুবই আন্তরিক। বাচ্চা আগের চাইতে কিছুটা ভালো আছে।”
টেবুনিয়া থেকে দুই বছর বয়সী শিশু মিমকে নিয়ে এসেছেন সুরুজ আলী। তিনি বলেন, “সম্প্রতি বাচ্চার পাতলা পায়খানা ও সর্দি জ্বর হয়। পরে তিনদিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করাই।”
পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি এলাকার এক নারী বলেন, “কয়েকদিন ধরে আমার পেটের মধ্যে সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শেও কোনো কাজ না হওয়ায় জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। ডায়রিয়া ঠিক হওয়ার কোনো লক্ষণই পাচ্ছি না।”
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দিঘলগাছির মোজাহার বলেন, “ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুইদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি। খাবার স্যালাইন ঠিকমত দেওয়া হলেও অন্যান্য স্যালাইন আমরা পাচ্ছি না। এই ছোট্ট রুমে এত মানুষ। রোগ ঠিক হওয়া তো দূরের কথা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছি না।”
ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ নুরুন নাহার বলেন, “কিছুদিন ডায়রিয়া ওয়ার্ডের কলেরার স্যালাইন সরবরাহ ছিলো না। এ ওয়ার্ডের জন্য নির্দিষ্ট ডাক্তার নেই। মেডিসিন বিভাগ ও শিশু ওয়ার্ডের ডাক্তার এই ওয়ার্ড দেখেন। এই ওয়ার্ডও পরিচালিত হয় মেডিসিন বিভাগ ও শিশু ওয়ার্ড থেকে। আমরা শুধু তাদের সেবা বা নিয়ম অনুসারে সকল ওষুধ স্যালাইন দিয়ে থাকি। যদিও বর্তমানে কলেরা স্যালাইন সরবরাহ রয়েছে, তবে তো সবাইকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. ওমর ফারুক মীর বলেন, “ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেশি। শয্যার তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত রোগী এলেও আমরা কোনো রোগীকে ফিরিয়ে না দিয়ে ভর্তি করে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি।”
পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চৌধুরী বলেন, “জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগী আশঙ্কাজনকভাবে বাড়লেও সেখানে বাড়তি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ডায়রিয়া রোগের ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। তাদের হাসপাতালে আনতে দেরি করা যাবে না।”

















