একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগে পাঁচ লাখ মানুষ


হাসান সিকদার, টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৭, ২০২২, ১০:৫৫ এএম
একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগে পাঁচ লাখ মানুষ

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিলের ঝিনাই নদীর সেতু ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। খরস্রোতা নদীতে ঝুঁকি নিয়েই নৌকায় পারাপার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ এবং স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। দুই বছর আগে সেখানে একটি নতুন সেতু নির্মাণ শুরু হলেও মাত্র তিনটি পিলারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

জানা যায়, ২০০০ সালে ঝিনাই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা হয়। ২০০৭ সালে বন্যায় এই সেতুটির ব্যাপক ক্ষতি হয়। নিচের নিচের পিলারের রড বেরিয়ে আসে। ভেঙে যায় অনেক পিলার। এছাড়া ঝিনাই নদীর ব্যাপক ভাঙনে সেতুর উত্তর পাশে ৫০০ মিটার ভেঙে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। ফলে উপজেলা সদরের সঙ্গে পাঁচটি ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

উপজেলার উত্তরে রয়েছে কাশিল, বাসাইল, কাউলজানী ও ফুলকী ইউনিয়ন। দক্ষিণে রয়েছে হাবলা, কাঞ্চনপুর, ফতেপুর ও ডুবাইল ইউনিয়ন। মাঝখানে ঝিনাই নদী। সেতু না থাকায় নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হতে হচ্ছে এসব ইউনিয়নের লোকজনকে।

টাঙ্গাইল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২৭০ মিটার সেতুটি নির্মাণের জন্য ২৬ কোটি ৫৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪৩৯ টাকার দরপত্র আহবান করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ২০২০ সালের ২৩ মার্চ সেতুটি নির্মাণের জন্য কার্যাদেশ পায় ময়নুদ্দিন লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ৬ মাসের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নদীর পাড়ে মাত্র তিনটি পিলার করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

কাশিল দক্ষিণ পাড়া গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন, “সেতু না থাকায় আমরা খুবই কষ্ট করছি। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়। তাছাড়া নদী পাড়ে এসে নৌকা ধরতে না পারলে প্রায় ২০-২৫ মিনিট বসে থাকতে হয়।”

কাশিল গ্রামের আন্না বেগম বলেন, “এই সেতু না থাকার কারণে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে নৌকার জন্য বসে থাকতে হয়। আমরা চাই অতি তাড়াতাড়ি যেন এই সেতুটি করে দেয়।”

কাশিল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শচীন্দ্র চন্দ্র ঘোষ বলেন, “সেতু না থাকায় নাটিয়া পাড়ার সঙ্গে বাসাইলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এত বড় নদী পাড় হয়ে বিদ্যালয়ে আসতে আমাদের খুবই কষ্ট হয়। আমরা দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।”

কাশিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রমজান আলী বলেন, “জনস্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে এই সেতুটি নির্মাণ করা দরকার। সেতু না থাকায় আমাদের এই উপজেলাকে দুই ভাগে বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। অপরিকল্পিত খনন ও গাইড বাঁধ নির্মাণ না করায় আগের সেতু ভেঙে গেছে।”

বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত নদী খননের ফলে সেতুগুলো ভেঙে গেছে। তাদের এ ব্যাপারে লিখিতভাবে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।”

টাঙ্গাইল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, “নদীর দিক পরিবর্তনের ফলে এখানে আগের সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নকশা অনুযায়ী এই সেতুটি পল্লী সড়কের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঝিনাই নদী ওপর কাশিল নামক জায়গায় হচ্ছে। আমরা ঠিকাদারকে বলেছি ও চিঠি দিয়েছি।”

Link copied!