নাটোরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১২ জন গুলিবিদ্ধ


নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩, ২০২২, ০৩:২৭ পিএম
নাটোরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১২ জন গুলিবিদ্ধ

নাটোরের সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের বেড়াবাড়ি গ্রামে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১২ জন গুলিবিদ্ধসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ ১২ জনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) ভোর থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলনবিলের দুর্গম বেড়াবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নাটোর জেলা পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, ২০১৬ সালে বেড়াবাড়ি গ্রামে রেজাউল নামের একজনকে হত্যা করা হয়। হত্যা মামলার আসামিরা বাদী রেজাউলের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে ও সাক্ষী না দিতে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এ ঘটনায় প্রায়ই দু-পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিত। সম্প্রতি স্থানীয় মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টি জোরালো হয়। 

শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) মসজিদের কমিটি গঠন হওয়ার কথা থাকলেও দুই পক্ষের সাংঘর্ষিক অবস্থানের কারণে সম্ভব হয়নি। কমিটি গঠন বিলম্বিত হওয়ার জন্য এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দোষারোপ করে দিনভর। শনিবার ভোরে রেজাউল হত্যা মামলার ৩ নম্বর আসামি সাইফুলের নেতৃত্বে রেজাউলের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায় প্রতিপক্ষরা। এ সময় রেজাউলের পরিবারের সদস্য মোজাম্মেল, লাকী বেগম ও শিরিনা বেগমকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ সাইফুল গ্রুপ।

এ সময় রেজাউলের পরিবারের সদস্যরা বেরিয়ে এলে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শামীম প্রামাণিক, মনসুর রহমান, আলী আজগর, আ. মান্নান, সাইদুর, সবুজ, শুভ, আব্দুর রউফ, দীপন, জামাল, বাবু সরকার, আমিরুল তালুকদার গুলিবিদ্ধ হন। কয়েক ঘণ্টা এভাবে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে। পরে তাদের উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। এরপর বেলা ১১টায় গুলিবিদ্ধদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

৬ বছর আগে নিহত রেজাউলের স্ত্রী মনিরা বেগম বলেন, “সাইফুলের সঙ্গে ২০-৩০ জন তাদের ওপর হামলা চালায়। তারা প্রথমে বাড়ির নারী সদস্যদের কোপাতে শুরু করে এবং পুরুষদের ওপর গুলি চালায়।”

এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাইফুলের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ডাহিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল মজিদ মামুন বলেন, “বেড়াবাড়ি গ্রামে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরে। আমরা বারবার চেষ্টা করেও সমাধান করতে পারিনি। প্রশাসনের কাছে আবেদন এলাকায় শান্তি ফেরানোর জন্য, তারা যেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।”

সিংড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জামিল আখতার বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ বেড়াবাড়ি গ্রামে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় উভয় পক্ষের ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।”

নাটোর জেলা পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান বলেন, “হত্যা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়াকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শটগান থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে। অস্ত্র ও গুলি জব্দ ও এগুলোর উৎস সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।”

Link copied!