গাইবান্ধায় এক নববধূকে (১৮) বিয়ের পরদিন দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। সেই মামলায় তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (৩১ আগস্ট) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার (২৭ আগস্ট) সাঘাটা উপজেলার এক তরুণের সঙ্গে পাশের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার এক তরুণীর বিয়ে হয়। নতুন বউকে নিয়ে সাঘাটার বাড়িতে চলে যায় বরপক্ষ। পরের দিন বৃহস্পতিবার নববধূকে নিয়ে গোবিন্দগঞ্জে তার বাবার বাড়িতে যান বর ও ছয় বন্ধু। ওই রাতে নববধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে বর ও তার ছয় বন্ধুকে বাড়ির লোকজন মারধর করেন।
পরদিন শুক্রবার (২৯ আগস্ট) নববধূর বাড়ির লোকজন বর, তার বন্ধুসহ সাতজনকে গোবিন্দগঞ্জ থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ এনে এলাকার লোকজন সাতজনকে গোবিন্দগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করেন। গতকাল শনিবার (৩০ আগস্ট) বরের বাড়ির লোকজন সাঘাটা থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন, সাতজনকে অন্যায়ভাবে গোবিন্দগঞ্জ থানায় আটকে রাখা হয়েছে। পরে গতকালই সাতজনকে সাঘাটা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গতকাল নববধূর বড় ভাই বাদী হয়ে বর ও অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে সাঘাটা থানায় ধর্ষণের মামলা করেন।
এ বিষয়ে রোববার (৩১ আগস্ট) সকালে সাঘাটা থানার ওসি বাদশাহ আলম বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ না দেওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। নববধূর স্বামীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে সঠিক তথ্য জানানো হবে।
গত শুক্রবার নববধূকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফাহাদ আল আসাদ বলেন, চিকিৎসা নিতে আসা ওই নববধূর শরীরে ধর্ষণ ও নির্যাতনের আলামত আছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।