• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

গফরগাঁওয়ে মা-বাবার হাতে ছেলে খুন


ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২১, ১২:১৪ পিএম
গফরগাঁওয়ে মা-বাবার হাতে ছেলে খুন

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের চাকুয়া গ্রামে বাবা, মা ও ভাইয়ের হাতে খুন হলেন শারফুল ঢালী (২৮) নামের এক যুবক। বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। 

প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুজ্জামান।

ওসি মো. রাশেদুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় নিহতের মা হোসনে আরাকে (৪৫) আটক করলেও অভিযুক্ত বাবা ইসহাক ঢালী (৫৫) ও ছোট ভাই আশরাফুল ঢালী (২৫) পলাতক। একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত বাবা ও ভাইকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চাকুয়া গ্রামের ইসহাক ঢালীর ছেলে প্রবাসী শারফুল দীর্ঘ ৮ বছর লেবাননে ছিলেন। ছয় মাস আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন। প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় আয়-রোজগারের সমস্ত টাকা তিনি তার বাবার নামে দেশে পাঠাতেন। দেশে ফেরত আসার পর আশরাফুলকে তার বাবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে বাব ও ছেলের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। বুধবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে টাকাপয়সা নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে ইসহাক ঢালী, মা হোসনে আরা ও ছোট ভাই আশরাফুল ঢালী লোহার রড ও শাবল দিয়ে শারফুল ঢালীকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে অর্ধমৃত অবস্থায় বসতঘরে তালাবন্ধ করে রাখে। পরে শারফুল ঢালীর চিৎকারে স্বজন ও এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করতে গেলে ইসহাক ঢালী, হোসনে আরা, আশরাফুল ঢালী ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলাকাবাসীকে ধাওয়া করে। ওই দিন বিকেলে খবর পেয়ে পাগলা থানা-পুলিশ শারফুল ঢালীকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শারফুল ঢালীর মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বজনরা জানান, বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা নিয়ে ছেলে শারফুল ঢালীর সঙ্গে তার বাবা-মার প্রায়ই ঝগড়া হতো। বুধবার সকালে ঝগড়ার একপর্যায়ে আশরাফুল ঢালীকে তার মা, বাবা ও ভাই মিলে লোহার রড, শাবল দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে, অর্ধমৃত অবস্থায় ফেলে রেখে কলাপসিবল গেটে তালা দিয়ে রাখে।

Link copied!