• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪৫

যেসব কারণে শঙ্কিত পর্যটন ব্যবসায়ীরা


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৯, ২০২৪, ০৯:৫৭ পিএম
যেসব কারণে শঙ্কিত পর্যটন ব্যবসায়ীরা
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। ছবি : সংগৃহীত

ঈদ আর বাংলা নববর্ষ ঘিরে পর্যটন ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের পরিকল্পনা থাকে। পর্যটক আকর্ষণে তারা নানা উদ্যোগ নিয়ে থাকেন। এবারও পর্যটন ব্যবসার বড় সম্ভাবনা দেখেছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে সে সম্ভাবনা এখন শঙ্কায় পরিণত হয়েছে।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) নেতারা বলছেন, গেল বছরের চেয়ে এবার ঈদে পর্যটকের সংখ্যা কম হবে। কারণ হিসেবে তারা ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া, মানুষের ব্যবসা বাণিজ্যে মন্দার পাশাপাশি গরম বেড়ে যাওয়া ও পার্বত্য অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করছেন।

পর্যটনখাতের বিনিয়োগকারীদের মতে, ভ্রমণ বা পর্যটন একটা বিলাসী খাত। বাড়তি অর্থেই মানুষ ভ্রমণ করে থাকে। তবে অর্থনৈতিকভাবে মানুষ এখন ভালো নেই। তাই ঈদ আর নববর্ষ ঘিরে গেল বছরের মতো এবার আনন্দ-উচ্ছ্বাস অনেক কম। ভ্রমণপিপাসী অনেকের হাতেই টাকা নেই। বিমানের চড়া দামের টিকিট কেনারও সাধ্য নাই অনেকের।

পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন, খরচের চাপ ছাড়াও দেশের আবহাওয়া বেড়ানোর অনুকূলে নেই, এখন প্রচণ্ড গরম। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের অশান্ত পরিস্থিতি যুক্ত হয়ে এবার বেড়ানোয় আগ্রহ কমেছে মানুষের।

টোয়াবের হিসাবে আগের বছরগুলোতে ঈদের ছুটিতে দেশের বাইরে বেড়াতে যাওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল তিন থেকে চার লাখ। এই সংখ্যা এবার কমে আসবে বলে মনে করছেন টোয়াব নেতারা। তাদের তথ্যমতে, ভ্রমণপ্রেমীদের সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য মূলত ভারত। নেপাল, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর ও মালদ্বীপও আছে এ তালিকায়। এর বাইরে মধ্যপ্রাচ্য আর পশ্চিমা বিশ্বেও ভ্রমণে যান অনেকে। তবে গেল বছরের তুলনায় এবার বুকিং কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন টোয়ার নেতারা।

দেশের ভেতরে পর্যটনের সবচেয়ে জনপ্রিয় কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন, সুন্দরবন, সিলেটসহ গোটা পার্বত্য এলাকা। তবে এবার পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলায় ভ্রমণের আগ্রহ অনেক কমেছে। কারণ গত বছর থেকেই পার্বত্য অঞ্চলে ভ্রমণের অনুমতি থেকে বঞ্চিত পর্যটকরা। এবার তার ওপর বান্দরবানের রুমা, থানচির ঘটনা খানিকটা আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যার খানিকটা প্রভাব পড়তে পারে কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিনসহ অন্য পর্যটনস্পটগুলোতেও।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিদেশে ভ্রমণে ডলার খরচ বাড়ে। তার চেয়ে বরং দেশের ভেতরে বেড়াতে যাওয়ায় অর্থনীতি চাঙ্গা হয়। অভ্যন্তরীণ ভ্রমণকে নিরাপদ করতে তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ঈদ ও পয়লা বৈশাখের লম্বা ছুটি ঘিরে ভ্রমণপ্রেমীরা যাতে পর্যটনস্পটগুলোতে নির্বিঘ্নে বেড়াতে পারে সেজন্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পার্বত্য এলাকাতেও জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পর্যটনের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্পট কক্সবাজার, কুয়াকাটা ও পতেঙ্গায় সিসি ক্যামেরা বসিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে নজরদারি করা হচ্ছে। এ ছাড়া জরুরি সহায়তার জন্য সমুদ্রসৈকতে ‘ইন্টারকম’ রাখা হয়েছে। যেখানে চাপ দিলেও সেখানে পুলিশ পৌঁছে যাবে।

পর্যটনে জড়িতরা বলছেন, গেল কয়েকবছর ধরেই বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রার অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। টানা তাপপ্রবাহ দেখা দিচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে ভ্রমণপ্রেমীদের ওপর। প্রচণ্ড গরমে অনেকেই ভ্রমণ পরিকল্পনা স্থগিত করছেন। ফলে তীব্র তাপপ্রবাহ পর্যটন ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য কক্সবাজারে পর্যটকদের জন্য হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট আছে সাড়ে পাঁচশর বেশি। যেসব হোটেলে ধারণক্ষমতা দুই লাখের বেশি। গত বছরে এই সময়ে শতভাগ বুকিং হলেও এবার তা হয়নি।

টুরিজম রিসোর্ট ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতারা গণমাধ্যমকে বলছেন, রিসোর্টগুলোতে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে কক্সবাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত রোববার পর্যন্ত অগ্রিম বুকিং হয়েছে ৩০ শতাংশ। ইতোমধ্যে শতভাগ বুকিং হবে বলে আশা করছেন তারা।

Link copied!