বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় যখন দেশ-বিদেশের কোটি মানুষ মেতে উঠেছে। তখন সেই আনন্দ থেকে কারাবন্দিদের বঞ্চিত না করতে ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক শরিফা হকের নির্দেশনায় টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের প্রতিটি ওয়ার্ডে টেলিভিশন স্থাপন করা হয়েছে। যাতে বন্দিরা বিশ্বকাপের খেলা উপভোগ করতে পারেন।
কর্তৃপক্ষ বলছে, টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ বন্দি রয়েছেন। বিশ্বকাপ উপলক্ষে কারাগারের ১৮টি ওয়ার্ডেই টেলিভিশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে বন্দিরা নিয়মিতভাবে বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করতে পারছেন। খেলা ঘিরে কারাগারের ভেতরেও তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
সচেতন মহলের মতে, কারাবন্দিদের মানসিক সুস্থতা ও সংশোধনমূলক কার্যক্রমে বিনোদনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তাদের মানসিক চাপ কমাতে এবং ইতিবাচক চিন্তাভাবনা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
জেলা প্রশাসক শরিফা হকের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে। বন্দিদের প্রতি সহমর্মিতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির এমন পদক্ষেপ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে এবং কারা ব্যবস্থাপনায় মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. আনোয়ার হোসেন বললেন, ‘কারাবন্দিদের মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে এই উদ্যোগ । কারাগারেও ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও জার্মানির অনেক সমর্থক রয়েছেন। তাদের আগ্রহ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খেলা চলাকালে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। ফলে সব বন্দিই সমানভাবে বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন।’
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব হাসান বলেছেন, ‘জেলা প্রশাসক সবসময় মানবিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন। বন্দিদেরও মানসিক চাহিদা ও বিনোদনের অধিকার রয়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরের আনন্দ থেকে তারা যেন বিচ্ছিন্ন না থাকেন, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসক নিয়মিত কারাগার পরিদর্শন করেন এবং বন্দিদের খোঁজখবর নেন। এমনই এক পরিদর্শনের সময় বন্দিরা বিশ্বকাপ খেলা দেখার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কারাগারের ১৮টি ওয়ার্ডে টেলিভিশন স্থাপন করা হয়।


























