আফ্রিকার ১০ দলের ৯টিই নকআউটে


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ০১:৫৮ এএম
আফ্রিকার ১০ দলের ৯টিই নকআউটে

‘দিস টাইম ফর আফ্রিকা’-২০১০ বিশ্বকাপে শাকিরার এই গান এখনো সমান জনপ্রিয়। গান হিট হলেও আফ্রিকান দলগুলো সেই বিশ্বকাপে মেলে ধরতে পারেনি নিজেদের। তবে এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে সফলই বলা চলে আফ্রিকাকে। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া তাদের ১০ দলের ৯টিই পৌঁছেছে নকআউটে। তাদের সাফল্যের হার ৯০ শতাংশ। বাদ পড়েছে শুধু তিউনিসিয়া।

উয়েফা ১৬ দলের ১৩টি দল শেষ ৩২-এ থাকবে, তাদের সাফল্যের হার ৮১.২৫ শতাংশ। তুরস্ক, চেক প্রজাতন্ত্র এবং স্কটল্যান্ড বিদায় নিয়েছে। কনমেবল ১০০ শতাংশ সাফল্যের হার পেতে পারত কিন্তু উরুগুয়ে স্পেনের কাছে হেরে যাওয়ায় তাদের ছয় দলের পাঁচটি জায়গা পেয়েছে। শেষ ৩২-এ নিজেদের স্থান নিশ্চিত করেছে, যার সাফল্যের হার ৮৩.৩ শতাংশ।

এবারের বিশ্বকাপে শেষ ৩২-এ জায়গা পাওয়াটা খুব কঠিন ছিল না, তবে তা আফ্রিকান ফুটবলের এই সাফল্যকে বিন্দুমাত্র ম্লান করে না। কেপ ভার্দে, কঙ্গো এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ছিল এই পর্বের সবচেয়ে বড় চমক। স্পেন এবং উরুগুয়ের মতো সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হিসেবে পরের রাউন্ডে উঠেছে কেপ ভার্দে। কঙ্গো পর্তুগালের বিপক্ষে ড্র আর উজবেকিস্তানকে হারিয়ে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে নকআউটে। আর গ্রুপ ‘এ’ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় করে দিয়েছে চেক প্রজাতন্ত্র এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে।

মরক্কো, ঘানা, আলজেরিয়া খেলেছে প্রত্যাশা মিটিয়ে। তবে জার্মানি ও ইকুয়েডরের সঙ্গে ‘গ্রুপ অব ডেথ’-এ থাকা আইভরি কোস্ট ছিল অন্যতম বড় চমক। তারা ইকুয়েডরকে হারিয়েছে আর জার্মানদের বেশ ভালোই ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল। তাদের ইয়ান দিওমান্দে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজর কেড়েছেন এরই মধ্যে।

এই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তাই আফ্রিকান ফুটবলের জয়গান। তাদের কয়েকটি দল টুর্নামেন্টে অনেক দূর যেতে পারে। মরক্কোকে সবচেয়ে বিপজ্জনক মনে করা হচ্ছে, যদিও শেষ ৩২-এ নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হতে হবে তাদের। তবে যেকোনো ফেভারিট দলকেই চমকে দিতে পারে মরক্কো।


আফ্রিকান দলগুলোর সংহতি ছিল অসাধারণ। তাদের বেশিরভাগই সুদৃঢ় রক্ষণাত্মক কাঠামোর পাশাপাশি আক্রমণাত্মক ও গতিশীল কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবলের চমৎকার ভারসাম্য বজায় রেখেছিল। এই দলগুলো আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি হওয়া পারস্পরিক বোঝাপড়াকে কাজে লগিয়েছে।


ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলোয় মাঠ কাঁপানো একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলার উঠে এসেছে এই মহাদেশ থেকে। স্থানীয় পর্যায়ে অবকাঠামোগত বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়ায় ছোট দেশগুলোয় উন্নতমানের প্রশিক্ষণ সুবিধা ও যুব একাডেমির উন্নয়ন হয়েছে। তাতে তরুণ প্রতিভারা সরাসরি বৈশ্বিক শীর্ষ লিগগুলোয় খেলার সুযোগ পাচ্ছে।

 
মরক্কো প্রভাব: গত বিশ্বকাপে মরক্কোর সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার গৌরবময় যাত্রা আফ্রিকান দলগুলোকে ‘আন্ডারডগ’ থেকে আত্মবিশ্বাসী ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’ এবারও ব্রাজিলের সঙ্গে ড্র করেছে। এই সাফল্য কেপ ভার্দের মতো টুর্নামেন্টের উদীয়মান দলগুলোকে অনুপ্রাণিত করেছে যথেষ্ট।

Link copied!