একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা থেকে শুরু করে বর্তমান রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর ‘সুবিধাবাদী’ ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, ঐতিহাসিকভাবে জামায়াতে ইসলামী সবসময় সুবিধাবাদী রাজনীতি করেছে। ১৯৪৭ সালে তারা পাকিস্তান চায়নি, আবার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতারও বিরোধিতা করেছে। মুখে ইসলামের কথা বললেও তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ডে তার প্রতিফলন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীকে একটি 'আন্তর্জাতিক সংগঠনের শাখা' হিসেবে আখ্যায়িত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দলটির ৯৩ পৃষ্ঠার নির্বাচনী ইশতেহারে শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র, ইসলামী সমাজব্যবস্থা, ইসলামী বিচারব্যবস্থা কিংবা ইসলামী অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার কোনো সুস্পষ্ট অঙ্গীকার নেই। তিনি প্রশ্ন রাখেন, “তাহলে তারা কেমন ইসলামী দল?” শিক্ষা বিষয়ে তাদের প্রস্তাবেও শুধু মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের কথা রয়েছে, সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দলটির অতীত ইতিহাস তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান চায়নি, আবার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশও চায়নি। উল্টো মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশীয় দোসর হিসেবে গভর্নর মালেক সরকারের মন্ত্রিসভায় জামায়াত নেতাদের মন্ত্রী হওয়ার ইতিহাসও তিনি সংসদে স্মরণ করিয়ে দেন। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সুযোগ পেয়ে পুনরায় সংগঠিত হওয়া এবং বিভিন্ন সময়ে সুবিধাবাদী জোট গঠনের অভিযোগও তোলেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের নেতারা পাকিস্তানি শাসকদের সহযোগিতা করেছেন এবং তৎকালীন গভর্নর মালেকের মন্ত্রিসভায় অংশ নিয়েছিলেন। পরে রাজনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হলে তারা আবারও সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন সময়ে সুবিধাবাদী জোট রাজনীতি করেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত তদন্ত, গ্রেপ্তার ও বিচারিক কার্যক্রম নিশ্চিত করা হচ্ছে। মাদক, জুয়া ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ দমনে আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজও এগিয়ে চলছে।
অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৯ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট দেশকে স্বনির্ভর অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।



































