• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৬৪ রান


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৩, ০৭:১৪ পিএম
ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৬৪ রান
সতীর্থদের ব্যর্থতার বিপরীতে একাই লড়লেন নাজমুল হাসান শান্ত। ছবি : সংগৃহীত

একাই লঙ্কান বোলারদের বিপক্ষে লড়াই চালিয়ে গেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দলের বাকি ব্যাটাররা ছিলেন পুরোপুরি ব্যর্থ। ব্যাটিং ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্কোর থামে ১৬৪ রানে। তখনও ম্যাচের বাকি ছিল ৪৪ বল। জয়ের জন্য লঙ্কানদের লক্ষ্য ১৬৫ রান।  

টস জিতে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের হয়ে শুরুটা করেন অভিষিক্ত তানজিদ হাসান তামিম ও নাঈম শেখ। তবে বাংলাদেশের সেই চিরচেনা ওপেনিং ব্যর্থতা দেখা মিলল আবারও। দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই উইকেট হারায় টাইগাররা। নিজের অভিষেকটা রাঙাতে পারেননি তামিম। নামের পাশে কোনো রান যোগ করার আগেই মহীশ তিকশানার বলে এল বি ডাব্লিই হয়ে ফিরেন তিনি। তামিম যখন আউট হন বাংলাদেশের রান তখন ৪।

এরপর নাজমুল শান্তর সঙ্গে দেখে শুনে ব্যাট করতে থাকেন নাঈম শেখ। তবে আবারও ব্যাট হাতে ব্যর্থ নাঈম। ব্যক্তিগত ১৬ রানে বিদায় নেন তিনি। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে বড় শট খেলতে গিয়েছিলেন নাঈম, তবে নিয়ন্ত্রণ ছিল না কোনোই। আউটসাইড-এজে ক্যাচ গেছে শর্ট থার্ডম্যানে। অষ্টম ওভারে বাংলাদেশ হারিয়েছে দ্বিতীয় উইকেট। দলীয় রান তখন ২৫।

বেশিদূর যেতে পারেননি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও।  মাতিশা পাতিরানার অফ স্টাম্পের বাইরের বাড়তি বাউন্সের বলে কাট করতে চেয়েছিলেন সাকিব। তবে শট খেলে ফেলেন আগেভাগেই। আউটসাইড-এজ যায় উইকেটের পেছনে, কুশল মেন্ডিস লুফে নেন দারুণ একটা ক্যাচ। ৫ রান করে সাকিব যখন বিদায় নেন তখন দলীয় রান ৩৬।

সাকিবের বিদায়ের পর বেশ চাপে ছিল বাংলাদেশ। নাজমুল ও হৃদয়ের জুটিতে উঠল ৫০ রান, লেগেছে ৭০ বল। শান্ত নিজেকে শান্ত রেখে তুলে নেন অর্ধশতক। শানাকার অফ স্টাম্পের বাইরের বলে কাট করে চার, তাতেই ফিফটি হয়ে গেল নাজমুলের। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এ বাঁহাতির এটি চতুর্থ ফিফটি।

তার ফিফটির পরিই ভাঙে এই জুটি। হৃদয়কে ফেরান লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন সানাকা। ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে এসে শানাকাকে খেলতে গিয়ে লাইন মিস করে যান হৃদয়, শ্রীলঙ্কার জোরাল আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। শ্রীলঙ্কা নেয় রিভিউ। আর তাতেই সফল হয়েছে তারা। হৃদয়ের আউটে ভাঙল নাজমুলের সঙ্গে ৫৯ রানের জুটি। বাংলাদেশ চতুর্থ উইকেট হারিয়েছে দলীয় ৯৫ রানে। হৃদয় প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে করেন ২০ রান।

মুশফিকের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা নাজমুলের। কিন্তু ব্যর্থ হন নাজমুল। দলীয় ১২৭ রানের সময় ফেরেন মুশি। ভাঙে ৩২ রানের জুটি। পাতিরানার পতানো ফাঁদে পা দেন মুশফিকুর রহিম। তার করা শর্ট লেংথ বলে শেষ মুহূর্তে ব্যাট চালিয়েছিলেন, একেবারে নিচে লেগে সরাসরি ক্যাচ গেছে থার্ড ম্যানে দিমুথ করুনারত্নের হাতে। ২২ বলে ১৩ রান করেই থামলেন মুশফিক।

এরপর নাজমুলকে সঙ্গ দিতে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে মিরাজ ফিরেন রান আউটে কাটা পড়ে। কল দিয়ে ২২ গজের অর্ধেকটাও যাননি মিরাজ। কিন্তু নাজমুল হাসান শান্ত দৌড়ে চলে গিয়েছিলেন অপর প্রান্তে। ততক্ষণে বোলিং প্রান্তে রান আউট করে ফেলেন কসুন রাজিথা। ভুল বোঝাবুঝিতে তাই রান আউটের শিকার হয়ে ফিরতে হলো মেহেদী হাসান মিরাজকে। ৫ রান করেন তিনি।

এরপর শান্ততে সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হন শেখ মেহেদী। দুনিথ ভেল্লালাগের আর্ম বল লাইন মিস করে এলবিডব্লিউ হয়েছেন তিনি। ২১ রানেই থেমেছে নাজমুলের সঙ্গে মেহেদীর জুটি। মেহেদী করেন ৬ রান।

নাজমুলকে রেখে ফিরছিলেন অন্যরা। অবশেষে ১১ রানের আক্ষেপ নিয়ে থামতে হল তাকেও। তিকশানার ক্যারাম বলে শেষ হলো নাজমুলের ৮৯ রানের ইনিংস। এরপর স্কোর বোর্ডে আর দুই রান যোগ করতেই ফিরেন তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজ। তাদের দুই জনের উইকেট তুলে মাতিশা পাতিরানা। লঙ্কানদের হয়ে সফল বোলার তিনি। নিয়েছেন ৪ উইকেট।  

Link copied!