প্রথম ম্যাচে একা হাতেই অসম্ভবকে সম্ভব করে বাংলাদেশকে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন মিরাজ। দ্বিতীয় ম্যাচেও দলের চরম বিপদে ত্রাতা হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন তিনি! ম্যাচের প্রথমদিকে দাপট দেখানো ভারতীয় বোলারদের তুলোধনা করে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি।
সিরিজের জয়ের লক্ষ্যে ভারতের বিপক্ষে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৬৯ রানেই ছয় ব্যাটার হারিয়ে রীতিমতো খাঁদের কিনারায় চলে গিয়েছিল স্বাগতিকরা। সেখান থেকে পাল্টা প্রতিরোধ গড়েন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ। শেষ পর্যন্ত রিয়াদের ৭৭ রান ও মিরাজের অপরাজিত ১০০ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৭১ রানের সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে দুই চার হাঁকালেও ওই ওভারেই আউট হয়ে ফেরেন এনামুল হক বিজয়। শুরু থেকেই অস্বস্তিতে থাকা অধিনায়কও লিটন এদিন উইকেটে থিতু হতে পারেননি। ৩৯ রানেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
এরপর সাকিবকে নিয়ে প্রাথমিক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন শান্ত। এরপর ইনিংসের ১২তম ওভারে তাকে বোলিংয়ে আনেন ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা। প্রথমবার বলে হাতে নিয়েই স্ট্রাইকে থাকা সাকিবকে একের পর এক বাউন্সারে রীতিমতো নাচিয়ে ছাড়েন উমরান।

এক ওভারেই সাকিবের হেলমেটে বল লেগেছে অন্তত দুইবার। একবার তো সাকিবের পিঠেও আঘাত করে উমরানের বাউন্সার। এছাড়া বাকি তিন বলেও মোটেও স্বস্তিতে ছিলেন না সাকিব।
আগুন ঝড়ানো প্রথম ওভারের পর ১৩তম ওভারে নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসেই প্রথম বলেই উইকেটের দেখা পান উমরান। তার বুলেট গতির ডেলিভারি উপড়ে ফেলে নাজমুল হোসাইন শান্তর উইকেট।
শান্তর বিদায়ের পর সাকিবও বেশিক্ষণ টিকেননি! দলীয় ৬৬ রানে ইনিংসের ১৭তম ওভারের শেষ বলে বড় শট খেলতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ আউট হয়ে ফেরেন তিনি। যাওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র আট রান।
সাকিব ফেরার পর মাত্র তিন রানের ব্যবধানে জোড়া উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলীয় ৬৯ রানে টানা দুই বলেই আউট হয়ে ফেরেন মুশফিকুর রহিম ও আফিফ হোসাইন।
এরপর আগের ম্যাচের নায়ক মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দু’জনের মিলে অতি সতকর্কার সাথে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ড এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
আগের ম্যাচে একা হাতের ম্যাচ জেতানোর আত্মবিশ্বাস এ ম্যাচেও পাওয়া গেলো মিরাজের ব্যাটে। দারুণ সব বাউন্ডারি আর সিঙ্গেলে রিয়ায়দকে নিয়ে বাংলাদেশকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের হাত থেকে বাচালেন তিনি।
অন্যপ্রান্তে রিয়াদও দিয়েছেন ধৈর্যের পরীক্ষা। ধীরে-সুস্থে ব্যাটিং করে মিরাজকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন বাংলাদেশ দলের এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।

৫৫ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ওয়ানডে হাফসেঞ্চুরি করেন মিরাজ। অন্যদিকে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করেন রিয়াদ। পরবর্তীতেও রিয়াদও তুলে নিয়েছেন দুর্দান্ত হাফ সেঞ্চুরি।
দু’জনের ব্যাটিংয়ে প্রথমে দাপট দেখানো ভারতীয় বোলাররা একপর্যায়ে রীতিমতো খেই হারিয়ে ফেলে। রিয়াদ ও মিরাজ ভারতীয় বোলারদের বিপক্ষে একের পর এক বাউন্ডারিতে ভারতের বিপক্ষে যে কোনো জুটিতে সর্বোচ্চ রানের জুটিও গড়েন।
দলীয় ২১৭ রানে ব্যক্তিগত ৭৭ রানে রিয়াদ ফিরলে ভাঙে ১৪৮ রানের রেকর্ড জুটি। রিয়াদের ইনিংসে কোনো ছক্কা না থাকলেও ছিল সাত চার। তবে সঙ্গী হারালেও ভড়কে যাননি মিরাজ।
ব্যাট হাতে শেষদিকে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন মিরাজ। তার ব্যাটিং তোপে শেষদিকে ভারতীয় বোলারদের অসহায় চেহারা বারবার ভেসে উঠছিল টিভি পর্দায়।
ইনিংসের শেষ ওভারে মিরাজের সেঞ্চুরির জন্য প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। প্রথম বলে নাসুম সিঙ্গেল দিয়ে স্ট্রাইক দিলেই দ্বিতীয় বলে বড় ছক্কা হাঁকান মিরাজ। এরপরের বল ডট গেলেও তার পরের বল আবারও ছক্কা হাঁকিয়ে সেঞ্চুরির আরও কাছে পৌছে যান খুলনার এই ক্রিকেটার।
পঞ্চম বলে দুই ও শেষ বলে এক নিয়ে উল্লাসে মেতে প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির। তার এই উড়ন্ত সেঞ্চুরিতে সাত উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ২৭১ রানের বড় সংগ্রহ পেয়েছে স্বাগতিকরা।

















