মেক্সিকোকে বিদায় করে শেষ আটে ইংল্যান্ড


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ১০:০৫ এএম
মেক্সিকোকে বিদায় করে শেষ আটে ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপের শেষ আট নিশ্চিত করার লড়াইয়ে আজ স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি ইংল্যান্ড। আজ জিতলে টানা তিন বিশ্বকাপে শেষ আট নিশ্চিত করবেন হ্যারি কেইনরা।
 

আজতেকা স্টেডিয়ামে গর্জে উঠছে, ‘It's coming home’ সুর। এই মাঠে মেক্সিকো ছাড়া মাত্র দুইবার কোনো দল জয়ের স্বাদ পেয়েছে। সেখানে ইংল্যান্ডের সমর্থকদের উল্লাস হওয়া স্বাভাবিকই। দুটি আনন্দ একসঙ্গে—১৯৮৬ বিশ্বকাপের অভিশাপ ঘোচানো এবং এবার শেষ আট নিশ্চিত।

শেষ বাঁশি বাজার পর মেক্সিকোর ফুটবলাররা ভেঙে পড়েছেন হতাশায়। তবে আজকের রাতটা শুধুই ইংল্যান্ডের—তাদের ইতিহাস গড়ার, তাদের উদযাপনের। দারুণ লড়াইয়ের ম্যাচটি ২-৩ গোলে জিতে নিয়েছে ইংল্যান্ড। হার্ট ব্রেকিং ফর মেক্সিকো।

১০ জনের দল নিয়েও ব্যবধান বাড়িয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুই দলের পেনাল্টিতে নাটকীয় মোড় নিয়েছে ম্যাচ।

৬০তম মিনিটে ইংল্যান্ড পেনাল্টি পায়। বক্সের ভেতরে বলের দখল নিতে গিয়ে অ্যান্থনি গর্ডনকে ফাউল করেন মেক্সিকোর ডিফেন্ডার ইসরায়েল রাঙ্গেল। কোনো দ্বিধা না করে স্পট কিকের নির্দেশ দেন রেফারি।

দায়িত্ব নিয়ে হ্যারি কেন ডান পায়ের জোরালো শটে বল জড়িয়ে দেন জালের নিচের বাঁ কোণে। গোলরক্ষককে ভুল পথে পাঠিয়ে ইংল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন অধিনায়ক।

তবে ম্যাচের নাটক তখনও শেষ হয়নি। ৬৭তম মিনিটে হ্যারি কেনের ক্লিয়ারেন্সের সময় বল মেক্সিকোর এরিক গুতিয়েরেসের পায়ে লাগার ঘটনায় পেনাল্টির আবেদন জানায় স্বাগতিকরা। ভিএআরের পরামর্শে মনিটরে গিয়ে ঘটনাটি পর্যালোচনা করেন রেফারি।

ভিডিও দেখে শেষ পর্যন্ত মেক্সিকোর পক্ষেই পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন তিনি। স্টেডিয়ামজুড়ে উল্লাসের মধ্যে ৬৯তম মিনিটে স্পট কিক নিতে আসেন রাউল হিমেনেজ। ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালের নিচের বাঁ কোণে পাঠিয়ে ব্যবধান কমিয়ে ৩-২ করেন মেক্সিকোর এই স্ট্রাইকার।

ফলে ১০ জনের ইংল্যান্ডের জন্য শেষ সময়টা আরও কঠিন হয়ে ওঠে। এক গোলের ব্যবধানে ম্যাচে টিকে থেকে সমতায় ফেরার আশা জিইয়ে রাখে মেক্সিকো।

লাল কার্ডে ১০ জনের ইংল্যান্ড, শেষ ৩৫ মিনিটে বাড়ল শঙ্কা
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে বড় ধাক্কা খেল ইংল্যান্ড। ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসাহ লাল কার্ড দেখায় শেষ ৩৫ মিনিট ১০ জন নিয়েই খেলতে হচ্ছে থ্রি লায়ন্সদের।

ঘটনার শুরুতে জেসুস গালিয়ার্দোর ওপর কোয়ানসাহর ট্যাকল নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায় মেক্সিকোর বেঞ্চ। তাদের দাবি ছিল, ট্যাকলটি ছিল বিপজ্জনক।

রেফারি প্রথমে খেলা চালিয়ে দিলেও পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে মনিটরের সামনে গিয়ে ঘটনাটি আবার দেখেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, কোয়ানসাহর পা অনেক উঁচুতে উঠে গিয়ে প্রতিপক্ষের গায়ে আঘাত করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।

লাল কার্ডের সিদ্ধান্তের পর দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। টাচলাইনে শুরু হয় বাগ্‌বিতণ্ডা, কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ম্যাচের পরিবেশ।

এর ফলে ইংল্যান্ডকে বাকি প্রায় ৩৫ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হবে। ম্যাচের আগে থেকেই রাইট-ব্যাক পজিশনে চোট ও খেলোয়াড় সংকটে থাকা থ্রি লায়ন্সদের জন্য এই লাল কার্ড নতুন করে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কুইনোনেসে ফিরল মেক্সিকো, পিকফোর্ডের জোড়া সেভে স্বস্তিতে ইংল্যান্ড
বেলিংহামের ‘ব্রিলিয়ান্ট’ দুই গোলে দারুণ অবস্থানে চলে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচে ফিরে আসে মেক্সিকো। ৪২ মিনিটে জুলিয়ান কুইনোনেসের গোলে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করে স্বাগতিকরা।

ইংল্যান্ডের ডিবক্স থেকে থেকে প্রায় ৪০ মিটার দূরে একটি ফ্রি-কিক পায় মেক্সিকো। রবার্তো আলভারাদোর ভাসানো বল বক্সে ডিফ্লেক্ট হয়ে পৌঁছে যায় কুইনোনেসের কাছে। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ভলিতে বল জালে পাঠান। পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে গোল করার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আজতেকা স্টেডিয়াম্।

গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে মেক্সিকো। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সমতায় ফেরার দারুণ দুটি সুযোগও তৈরি করে তারা।

৪৫+১ মিনিটে বাম দিক থেকে বল পেয়ে রাউল হিমেনেজ এক টাচে দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন। তবে অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায় বল। নিশ্চিত গোল থেকে বেঁচে যায় ইংল্যান্ড।

এরপর ৪৫+৩ মিনিটে আবারও হিমেনেজের হেডে গোলের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে দুর্দান্ত হেড করেছিলেন মেক্সিকোর এই স্ট্রাইকার। কিন্তু ঠিক সময়মতো বাম দিকে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ সেভ করেন জর্ডান পিকফোর্ড। তার এই দারুণ সেভের ফলে কর্নার পেলেও সমতায় ফিরতে পারেনি মেক্সিকো।

প্রথমার্ধ শেষে তাই ২-১ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় ইংল্যান্ড। তবে শেষ কয়েক মিনিটে মেক্সিকোর তীব্র আক্রমণ ইঙ্গিত দিচ্ছে, দ্বিতীয়ার্ধে জমজমাট লড়াই অপেক্ষা করছে।


জুড ‘ব্রিলিয়ান্ট’ বেলিংহাম। ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডকে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছেন এ ইংলিশম্যান। ৯৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে করেছেন জোড়া গোল। তার জোড়ায় হতবাক হয়ে পড়েছে স্বাগতিক মেক্সিকো।

ম্যাচের শুরুতে একের পর এক আক্রমণ করেও গোলের দেখা পায়নি মেক্সিকো। সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে ইংল্যান্ড। মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে বেলিংহামের জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে থ্রি লায়ন্সরা।

৩৬ মিনিটে ইংল্যান্ডের প্রথম গোলের সূচনা করেন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। তার কাছ থেকে বল পেয়ে ডেকলান রাইস দ্রুত আক্রমণে ওঠেন এবং ডান প্রান্তে থাকা বুকায়ো সাকার কাছে বল বাড়িয়ে দেন। সাকার নিখুঁত ক্রস হ্যারি কেইনকে ফাঁকি দিয়ে পৌঁছে যায় বেলিংহামের কাছে। ইংলিশ মিডফিল্ডার ডাইভিং হেডে বল জালে জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

মেক্সিকো সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আসে দ্বিতীয় গোল। ৩৮ মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন বেলিংহাম। এবার ডান পায়ের ভেতরের অংশের নিখুঁত শটে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। মাত্র দুই মিনিটে দুই গোল হজম করে হতবাক হয়ে যায় মেক্সিকো।

ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটে আধিপত্য ছিল মেক্সিকোর। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত শাস্তি পেতে হয় তাদের। ইংল্যান্ড নিজেদের সুযোগগুলো দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়।


মেক্সিকোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরু থেকেই চাপে ইংল্যান্ড। ম্যাচের ১৫ মিনিটেই গোল হজমের শঙ্কায় পড়ে থ্রি লায়নসরা। তবে সেই মুহূর্তে দলের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।

রাউল হিমেনেজের দুর্দান্ত ডাইভিং হেড গোলমুখে যাচ্ছিল। কিন্তু দ্রুত বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন পিকফোর্ড। তার অসাধারণ এই সেভে নিশ্চিত গোল থেকে বেঁচে যায় ইংল্যান্ড।

পিকফোর্ডের সেই সেভের ভূয়সী প্রশংসা করেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ওয়েইন রুনি।

রুনি বলেন, ‘ম্যাচের আগে আমি হ্যারি কেইনের স্থিরতার কথা বলেছিলাম। পিকফোর্ডও ঠিক একই ধরনের স্থিরতার পরিচয় দিয়েছে। সে জানত কখন ঝাঁপ দিতে হবে, জানত বাম হাতটা তাড়াহুড়া করে বলের দিকে বাড়ানো যাবে না। একদম নিখুঁত সময়ে হাত বাড়িয়েছে। তার টাইমিং ছিল দুর্দান্ত, পজিশনিংও ছিল নিখুঁত। সত্যিই এটি ছিল অসাধারণ একটি সেভ।’

রুনির মতে, বড় ম্যাচে একজন বিশ্বমানের গোলরক্ষকের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো চাপের মুহূর্তে শান্ত থাকা। আর হিমেনেজের হেড ঠেকিয়ে সেই গুণেরই প্রমাণ দিয়েছেন পিকফোর্ড।

Link copied!