স্কালোনির ভরসা মাঝমাঠের ত্রয়ীতে


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ১০:৩১ এএম
স্কালোনির ভরসা মাঝমাঠের ত্রয়ীতে

৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কাতারে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়েছেন লিওনেল জুটি। চার বছর আগে কোচ লিওনেল স্কালোনি ও অধিনায়ক লিওনেল মেসির রসায়নে প্রার্থিত শিরোপা জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা। পুরো টুর্নামেন্টে অবিশ্বাস্য ফুটবল উপহার দিয়ে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন মেসি। আর স্কালোনি মেসিকে কেন্দ্র করে আঁকেন কাপ জয়ের ছক। যে ছকে দারুণভাবে মানিয়ে যাওয়া মেসির তিন সতীর্থ এবারও আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডের দায়িত্বে।

মেসিকে মুক্ত রাখতে, ডেঞ্জার জোনে বলের জোগান দিতে স্কালোনির গড়তে হয়েছে এক শক্তিশালী মিডফিল্ড ব্রিগেড। যেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিন পরীক্ষিত রোদ্রিগো দে পল, এনসো ফের্নান্দেস ও ম্যাক আলিস্টার। এই ত্রয়ীতে কাতারের মতো এবারও সাফল্য খুঁজতে চাইছেন স্কালোনি। কোচ জানেন, এ তিনের বোঝাপড়াই মেসিকে দেবে নিজেকে ভয়ংকর রূপে চেনানোর অবারিত সুযোগ। এই ত্রয়ীর হয়তো কিছু দুর্বলতা আছে, আছে কিছু সীমাবদ্ধতাও। সেটি জানেন বলেই শক্তির পূর্ণ সদ্ব্যবহারে তারা ঢেকে দিয়েছেন নিজেদের দুর্বলতা।

চেলসির এনসো ফের্নান্দেস আর্জেন্টিনায় খেলেন ‘ডিপ-লাইন প্লে-মেকার’ হিসেবে। খেলার গতি নির্ধারণই তার কাজ। বল নিয়ন্ত্রণে রাখার দারুণ ক্ষমতায় তিনি ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। তীক্ষ্ম দৃষ্টি, প্রতিপক্ষের প্রেসিংয়ের মুখেও বল ধরে রাখার ক্ষমতা এবং নিখুঁত পাসিং দক্ষতায় এনসোকে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারের তালিকায় রাখা হয়। তার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ফরোয়ার্ডদের বিশেষ করে মেসিকে নিখুঁত ডায়াগোনাল বল বাড়িয়ে দেন হরহামেশাই। কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে এনসোর। ট্যাকটিক্যালি ভীষণ তীক্ষ্ম হলেও প্রথাগত শারীরিক শক্তিনির্ভর ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার নন তিনি। ফলে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে খেললে ততটা কার্যকর না হওয়ার ঝুঁকি থাকে। গতিশীল এবং কাউন্টার অ্যাটাক-নির্ভর দলগুলো সহজেই তাকে এড়িয়ে ওপরে উঠে যেতে পারে।
আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের আরেক সৈনিক ম্যাক আলিস্টার। অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং টেকনিক্যালি দারুণ প্রতিভাবান বলেই স্কালোনির কৌশলে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছেন। রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে যোগসূত্র গড়ে তুলতে জুড়ি নেই। বল দখলে রাখা, রিসাইকেল করা এবং প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে শেষ মুহূর্তে বিপজ্জনকভাবে ঢুকে ত্রাস সৃষ্টিতে পারদর্শী আলিস্টারের সঙ্গে মেসির বোঝাপড়াটাও বেশ। শুধু বলের জোগান নয়, গোলের চেষ্টা করাও মিডফিল্ডারদের বড় দায়িত্ব। এখানে একটু খামতি আছে লিভারপুল মিডফিল্ডারের। শক্ত রক্ষণভাগ একাকী ভেঙে ফেলার ক্ষমতায় কিছুটা ঘাটতি আছে তার।


আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের প্রাণ হলেন রোদ্রিগো দে পল। অবিশ্বাস্য স্ট্যামিনার সঙ্গে ট্যাকটিক্যালি অনেক বেশি শুদ্ধ। প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা আর ডিফেন্সিভ রোলে নির্ভুল থাকা দে পলকে স্বয়ংক্রিয় পছন্দে রূপ দিয়েছে একাদশে। দে পলের আরেকটি বড় গুণ মাঠের বিশাল অংশ জুড়ে তার স্বপ্রতিভ উপস্থিতি। তবে অতিরিক্ত চাপে তিনি পাস মাঝেমধ্যে গড়বড় করে ফেলেন। তা ছাড়া অ্যাটাকিং থার্ডে ট্যাকটিক্যাল ফাউল করার প্রবণতা আছে, যা অনেক সময় কার্ড ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
মাঠে মেসি যাতে স্বাধীন-মুক্ত হয়ে নিজের খেলাটা খেলতে পারেন, এই ত্রয়ীকে সেদিকেই বেশি দৃষ্টি রাখতে হয়। আলজেরিয়ার বিপক্ষে দারুণ জয়ে মেসির হ্যাটট্রিকের অবদান অনস্বীকার্য। একই সঙ্গে এই তিনের ছকে বাঁধা ফুটবলও রেখেছে ভূমিকা। আবার স্কালোনিকে বিকল্পও ভেবে গড়তে হয়েছে দল। এ ত্রয়ী কোনো ম্যাচে ব্যর্থ হতেই পারেন। আবার দল বাড়ায় বিশ্বকাপে ম্যাচের সংখ্যা ও দৈর্ঘ্য বেড়ে গেছে। তাই স্কোয়াডের গভীরতা বাড়াতে হয়েছে কোচকে। কাপ জিততে খেলতে হবে আট ম্যাচ। দীর্ঘ পথচলায় এনসো, আলিস্টার ও দে পলকে রোটেশন করে বিশ্রাম দিতে স্কালোনি দলে রেখেছেন থিয়াগো আলমাদা ও জিওভানি লো সেলসোর মতো অ্যাটাকিং এবং লিয়ান্দ্রো পারেদেসের মতো ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে।


মেসিকে মুক্ত রাখতে স্কালোনির বেশ কিছু কৌশল রপ্ত করে এখন পর্যন্ত সফল আর্জেন্টিনার মিডফিল্ড ব্রিগেড। লাউতারো মার্তিনেস ও হুলিয়ান আলভারেসদের সঙ্গেও মানিয়ে নেওয়া মিডফিল্ড নিয়ে কিছু ঝুঁকিও আছে। বল দখল, ধরে রাখা এবং অ্যাটাকিং থার্ডে মেসিকে মুক্ত রাখতে নিজেদের একটা বৃত্তে বন্দি করে ফেলেছেন মিডফিল্ডাররা। সেটি ধরে ফেলে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ড ও মেসিকে অকার্যকর করার কৌশল খুঁজে নেওয়া সহজ প্রতিপক্ষের জন্য।
আবার এটিও মানতে হবে, মেসি যখন খেলেন, তখন নিজ বা প্রতিপক্ষের কোচের সব পরিকল্পনাই ভেস্তে যায়। আর গত বিশ্বকাপ থেকেই মেসি খেলছেন পুরো দলকে নিয়ে। এবারও এটিই লা স্কালোনেতাদের বড় শক্তি।

Link copied!