হলান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ের উড়ন্ত সূচনা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
হলান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ের উড়ন্ত সূচনা

২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শক্তির প্রমাণ দিল নরওয়ে। স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলের সঙ্গে লিও অস্টিগার্ডের হেড আর যোগ করা সময়ের আরেক গোল মিলিয়ে ইরাককে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ইউরোপের দলটি। যদিও একসময় আয়মেন হুসেইনের গোলে সমতায় ফিরেছিল ইরাক, শেষ পর্যন্ত নরওয়ের আক্রমণের সামনে টিকতে পারেনি তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল নরওয়ে। আক্রমণভাগে হলান্ড, আলেকজান্ডার সরলথ, আন্তোনিও নুসা ও মার্টিন ওদেগার্ডকে নিয়ে বারবার ইরাকের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে তারা। প্রথমার্ধে কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও গোলের দেখা পেতে ২৯ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় নরওয়েকে।


দারুণ এক দলীয় আক্রমণ থেকে বাঁ দিক দিয়ে এগিয়ে আসা ডেভিড মোলার উলফের নিচু ক্রসে বক্সের ভেতরে উপস্থিত ছিলেন হলান্ড। কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে বিশ্বকাপ অভিষেকেই নিজের প্রথম গোলটি করেন ম্যানচেস্টার সিটির এই ফরোয়ার্ড।


গোল হজমের পর ইরাকও পাল্টা আক্রমণে ওঠে। ৩৮ মিনিটে আলি জাসিমের তৈরি আক্রমণ থেকে আমির আল-আম্মারির ভাসানো ক্রসে চমৎকার হেডে সমতা ফেরান অধিনায়ক আয়মেন হুসেইন। মুহূর্তেই ম্যাচে নতুন প্রাণ ফিরে আসে।

তবে সমতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে ইরাকের রক্ষণভাগের বড় ভুলের সুযোগ নেন হলান্ড। জাইদ তাহসিনের দুর্বল ব্যাকপাস ধরে গোলরক্ষক জালাল হাসানের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন তিনি। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে হাসানের শট হলান্ডের গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। ভাগ্যের সহায়তা থাকলেও গোলটি হলান্ডের নিরন্তর চাপ প্রয়োগেরই ফল।

বিরতির পর ইরাক লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করলেও নরওয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে। ৭৭ মিনিটে কর্নার থেকে আসে ম্যাচের নির্ণায়ক গোল। মার্টিন ওদেগার্ডের নিখুঁত কর্নারে উঁচু লাফিয়ে হেডে বল জালে পাঠান বদলি হিসেবে নামা লিও অস্টিগার্ড। দুর্বল মার্কিংয়ের কারণে গোলটি ঠেকাতে পারেনি ইরাক।

এরপর হ্যাটট্রিকের সুযোগও পেয়েছিলেন হলান্ড, তবে এবার তাকে রুখে দেন গোলরক্ষক হাসান। শেষ দিকে নরওয়ে রক্ষণে মনোযোগী হয়ে পড়লেও যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে আরও একটি গোল করে ব্যবধান ৪-১ করে ফেলে তারা।

বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচে দুই গোল করে ম্যাচসেরা হওয়ার দাবিদার হলান্ড। তার নেতৃত্বে নরওয়ে দারুণ সূচনা করল গ্রুপ পর্বে। অন্যদিকে হারলেও ইরাক আক্রমণে বেশ কিছু ইতিবাচক মুহূর্ত উপহার দিয়েছে, বিশেষ করে আয়মেন হুসেইনের গোল এবং প্রথমার্ধে তাদের লড়াকু মানসিকতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

Link copied!